মাসের পর মাস চেষ্টা করে অফার লেটার হাতে এল, আর তারপর একটা সার্টিফিকেট দূতাবাস থেকে ফেরত এল "গ্রহণযোগ্য নয়" লেখা সিল নিয়ে — পুরো একটা ইনটেক হারিয়ে গেল। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে এই সমস্যাটার চেহারা বদলেছে। বাংলাদেশ এখন Hague Apostille Convention-এর সদস্য। তবে সব দেশের জন্য নয়, আর যে দেশগুলো বাদ পড়েছে সেগুলোই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে পছন্দের তালিকায়।
এই লেখায় থাকছে apostille আসলে কী, ২০২৭-২৮ সেশনে কোন দেশ বাংলাদেশি apostille মানবে, কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, আর কোন ক্ষেত্রে আপনার কী করা উচিত। নিচের প্রতিটি তারিখ মূল সরকারি উৎস থেকে পড়া, আর যেটা নিশ্চিত করা যায়নি সেটা খোলাখুলি বলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention-এ যোগ দেয় ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই, আর তা কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন অনলাইনে e-Apostille দেয়, সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যে। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের যোগদানে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে — তাদের জন্য বাংলাদেশি apostille কাজ করে না, সেখানে পুরনো দূতাবাস সত্যায়নই লাগবে।
Apostille জিনিসটা কী, আর বাংলাদেশের জন্য কী বদলাল?
Apostille হলো একটামাত্র সনদ, যা একটা সরকারি কাগজকে বিদেশে বৈধ করে তোলে। আগে ইউরোপের জন্য একটা বাংলাদেশি ট্রান্সক্রিপ্ট পাঠাতে হলে প্রথমে শিক্ষা বোর্ড, তারপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তারপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস — তিন জায়গায় লাইন, তিনবার ফি, সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা। Apostille এই পুরো শিকলটাকে এক ধাপে নামিয়ে আনে, আর সদস্য দেশগুলোর কথা ছিল সেটা বাড়তি যাচাই ছাড়াই মেনে নেওয়া।
Hague Conference on Private International Law-এর নিজস্ব status table অনুযায়ী বাংলাদেশ যোগ দেয় ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই, আর convention কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন জাতীয় MyGov প্ল্যাটফর্মে e-Apostille সেবা চালায়। তাদের ভাষায় এটি জমা দেওয়া থেকে যাচাই পর্যন্ত "completely digital process", যেখানে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও QR কোড দিয়ে যাচাই করা যায়, আর কাজটি "completed within five days"।
এটা সত্যিই বড় উন্নতি। গোলমালটা লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের নামের পাশের ছোট একটা চিহ্নে।
কোন দেশ বাংলাদেশি apostille মানে, আর কোন দেশ মানে না?
HCCH-এর status table-এ বাংলাদেশের পাশে লেখা আছে A**। Convention-এর নিয়মে এই চিহ্ন বোঝায়, এমন একটি যোগদান যার বিরুদ্ধে আগে থেকে সদস্য থাকা এক বা একাধিক দেশ আপত্তি তুলেছে। কোনো দেশ আপত্তি তুললে সেই দেশ আর বাংলাদেশের মধ্যে convention কার্যকরই হয় না। ফলে ওই দেশগুলোর জন্য ঢাকার apostille-এর কোনো আইনি মূল্য নেই, আর পুরনো দূতাবাস সত্যায়নের পথই খোলা থাকে।
২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আমরা HCCH-এর notifications পাতাটি পড়ার সময় বারোটি দেশ আপত্তি জানিয়েছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ওই নির্দিষ্ট পাতাটি আর খোলা যায়নি — তাই নিচের তালিকাটিকে ওই পড়ার তারিখ পর্যন্ত সঠিক ধরুন, আর টাকা খরচের আগে আরেকবার যাচাই করে নিন।
| দেশ | Apostille? | আপত্তির তারিখ |
|---|---|---|
| Germany | না | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
| Czech Republic | না | ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| Austria | না | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| Finland | না | ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Belgium | না | ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Netherlands | না | ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Estonia | না | ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Greece | না | ২১ জানুয়ারি ২০২৫ |
| France | না | ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Denmark | না | ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Argentina | না | ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Lithuania | না | ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ |
| Poland | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Hungary | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Romania | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Türkiye | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Georgia | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Kazakhstan | হ্যাঁ | আপত্তি নেই |
| Egypt | সদস্যই নয় | পূর্ণ সত্যায়ন |
| Malaysia | সদস্যই নয় | পূর্ণ সত্যায়ন |
একটা বিষয় লক্ষ করার মতো — বাংলাদেশ সরকার এটা লুকায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজের e-Apostille পাতাতেই স্বীকার করা আছে যে France, Germany ও Netherlands আপত্তি তুলেছে। দুটি আলাদা উৎস, অর্থাৎ convention-এর status table আর ঢাকার নিজের পোর্টাল, একই দিকে ইঙ্গিত করছে।
বাংলাদেশে apostille আসলে কীভাবে করাবেন?
এখন পুরো কাজটাই অনলাইনে, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ধাপগুলো মোটামুটি এ রকম, যদিও আপলোডের পর্দা মাঝেমধ্যে বদলায়।

মন্ত্রণালয়ের পাতায় e-Apostille-এর কোনো ফি তালিকা প্রকাশ করা নেই, আর আমরা এর কোনো সরকারি অঙ্কও পাইনি। কোনো এজেন্সি যে টাকার কথা বলছে সেটা তাদের নিজের দাম, সরকারি ফি নাও হতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে বর্তমান ফি দেখে নিন।
আপনার গন্তব্য দেশ আপত্তি জানিয়ে থাকলে কী করবেন?
আপত্তি মানে কিন্তু দেশটা আপনার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর মানে শুধু এটুকু যে পুরনো পথটাই এখনো একমাত্র পথ। বাস্তবে এর অর্থ, আপনার কাগজ যাবে সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব কূটনৈতিক মিশনে। আর যেহেতু এই দেশগুলোর অনেকেরই বাংলাদেশে মিশন নেই, সেই মিশন হতে পারে New Delhi বা অন্য কোনো রাজধানীতে।
একজন শিক্ষার্থী Germany বা Czechia-র জন্য পুরো সেট কাগজে apostille করান, জমা দেওয়ার সময় জানতে পারেন সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, তারপর শূন্য থেকে সত্যায়ন শুরু করেন — বেশিরভাগ সময় ইনটেকের জন্য তখন আর সময় থাকে না। apostille-এর টাকাটা পুরোপুরি জলে যায়। অথচ আপত্তির তালিকাটা আগে দেখে নিতে এক পয়সাও লাগে না।
কোন দেশগুলো Apostille Convention-এর সদস্যই নয়?
এটা আলাদা এবং আরও কঠিন একটা ব্যাপার। আপত্তি মানে নির্দিষ্ট দুটি দেশের মধ্যে convention খাটে না। সদস্য না হওয়া মানে ওই দেশে apostille ব্যবস্থাটাই নেই, তাই কোনো apostille কখনোই কাজে আসবে না — প্রতিটি কাগজের পূর্ণ কনস্যুলার সত্যায়ন লাগবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেসব দেশ নিয়ে ভাবেন, তার মধ্যে Egypt ও Malaysia এই convention-এর সদস্য নয়। কেউ যদি আপনাকে "Malaysia-র জন্য apostille" বিক্রি করতে চায়, তিনি এমন একটা সনদ বিক্রি করছেন যা পড়ার ব্যবস্থাই ওই দেশে নেই।
তারিখও গুরুত্বপূর্ণ। Algeria যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে। Thailand যোগ দিয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন, কিন্তু সে দেশে convention কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি — অর্থাৎ তার আগে Thailand-এর জন্য করা apostille সময়ের আগেই করা। Peru সদস্য ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে, Philippines ২০১৯ সালের ১৪ মে থেকে, আর Moldova ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ থেকে।
স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোন কাগজে apostille লাগবে?
ঠিক কোনগুলো লাগবে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশনভেদে বদলায়, তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ফাইলে এই তালিকাটাই কাজে লাগে।
- SSC ও HSC সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র
- স্নাতকোত্তরে আবেদন করলে স্নাতক সার্টিফিকেট ও পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট
- জন্মনিবন্ধন সনদ
- গন্তব্য দেশ চাইলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে মেডিকেল বা টিকার রেকর্ড
- কেউ স্পনসর করলে স্পনসরশিপ বা সম্পর্কের হলফনামা
দুটি সতর্কতা। এক, apostille একটা নির্দিষ্ট কাগজের সঙ্গে যুক্ত থাকে — ফটোকপিতে apostille করা মানে মূল কাগজে apostille হওয়া নয়। দুই, কিছু মিশন কাগজের বয়সের সীমা বেঁধে দেয়, তাই এক বছর আগে করা apostille পুরনো বলে বাতিলও হতে পারে।
Apostille কী কী কাজ করে না?
অনেক কিছুই করে না, আর এখানেই শিক্ষার্থীরা এর ক্ষমতা নিয়ে বেশি আশা করে ফেলেন। Apostille শুধু একটা স্বাক্ষর আর সিলকে সত্যায়িত করে। আপনার ডিগ্রি স্বীকৃত কি না, বিশ্ববিদ্যালয়টি অ্যাক্রেডিটেড কি না, কিংবা কোনো পেশাদার সংস্থা আপনার ডিগ্রি নেবে কি না — এর কোনোটাই এটি বলে না।
বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ চিকিৎসাশাস্ত্র। বিদেশ থেকে পাস করা বাংলাদেশি চিকিৎসককে যে Registration Qualifying Examination দিতে হয়, Bangladesh Medical and Dental Council-এর সেই ফরমেই বলা আছে — ডিগ্রি সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশন দিয়ে সত্যায়িত করাতে হবে, তারপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়ে আবার সত্যায়ন করাতে হবে। এটা প্রচলিত সত্যায়নের শিকল, apostille নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজের প্রমাণের নিয়ম নিজেই ঠিক করতে পারে, আর BMDC সেটাই করেছে।
২০২৭-২৮ সেশনের জন্য কাগজের পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?
সার্টিফিকেট থেকে সামনে এগোনোর বদলে মিশন থেকে পেছনে হিসাব করুন। আগে দেশ ঠিক করুন, তারপর দেখুন সে দেশ আপত্তি জানিয়েছে কি না, এরপর পথ বাছুন — আর টাকা খরচ শুরু করুন সবার শেষে।
দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত করুন → সেই দেশের apostille অবস্থা দেখুন → apostille খাটলে বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যায়ন আছে কি না নিশ্চিত হোন → e-Apostille পোর্টালে জমা দিন → বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল apostille নেবে কি না মিলিয়ে নিন → সবকিছুর সত্যায়িত কপি রেখে দিন, কারণ মিশন থেকে মূল কাগজ দ্রুত ফেরত আসে না।
Eduvisa-য় আমরা যা দেখি তা হলো, কাগজের সমস্যা প্রায় কখনোই সঠিক কাগজ না থাকার কারণে হয় না। সমস্যা হয় সঠিক কাগজটা ভুল পথে চলে যাওয়ায়, আর সেটা ধরা পড়ে এত দেরিতে যে আর শোধরানোর সময় থাকে না। সমাধান শুরুতে পনেরো মিনিটের একটা যাচাই, শেষে উদ্ধারকাজ নয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Czech Republic স্টুডেন্ট ভিসার কাগজ ও ফান্ড · বাংলাদেশ থেকে Lithuania স্টুডেন্ট ভিসা
এই লেখায় ব্যবহৃত সরকারি উৎস: HCCH Apostille Convention status table এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের e-Apostille সেবা।
কাজ করার আগে যাচাই করে নিন। আপত্তির তালিকা আর কার্যকর হওয়ার তারিখ বদলায়। এখানকার তথ্য ও তারিখ উল্লিখিত উৎস থেকে ২৫ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পড়া। ফি দেওয়ার আগে গন্তব্য দেশের মিশন থেকে নিজের অবস্থাটা নিশ্চিত করে নিন।
আপনার কাগজের জন্য কোন পথ লাগবে, বুঝতে পারছেন না?
সার্টিফিকেটগুলো নিয়ে আমাদের কাছে আসুন। আপনার দেশের জন্য apostille কাজ করবে, নাকি দূতাবাসের পথেই যেতে হবে — সেটা আমরা সৎভাবে বলে দেব, ভুল পথে এক টাকা খরচ করার আগেই। এই পনেরো মিনিটের কথাবার্তা আমাদের শিক্ষার্থীদের গোটা ইনটেক বাঁচিয়েছে।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →


