হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিবারকে বিদায় জানিয়ে যখন KLIA-তে নামেন, তখন মনে হয় কঠিন অংশটা শেষ। ভিসা হয়ে গেছে, eVAL হাতে আছে। অথচ এর পরের দুই সপ্তাহে তিনটি আলাদা কাউন্টার আপনার কাছে একই পাসপোর্ট চাইবে—একটি ক্লিনিক, একটি ব্যাংক, আর আপনার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস। একসঙ্গে কেবল একজনের কাছেই সেটি থাকতে পারে। মালয়েশিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর SIM নেওয়া কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ভুল ক্রমে করলে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত আটকে যেতে হয়।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে EMGS-এর প্যানেল ক্লিনিকে মেডিকেল স্ক্রিনিং করাতে হয়। এরপর মূল পাসপোর্ট আর প্রতিষ্ঠানের চিঠি নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে—student pass endorsement-এর জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই। প্রিপেইড SIM নিতে সশরীরে মূল পাসপোর্ট লাগে, আর i-Kad আসে endorsement শেষ হওয়ার পর।
প্রথম ৭ দিনে ঠিক কী কী করতে হবে?
পাঁচটি কাজ, নির্দিষ্ট ক্রমে—eVAL দেখিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়া, মেডিকেল স্ক্রিনিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, SIM নিবন্ধন, আর সবার শেষে endorsement-এর জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া। এর মধ্যে চারটি কাজেই মূল পাসপোর্ট নিজের হাতে থাকা লাগে। তাই পঞ্চম কাজটি সবার শেষে।
সময়ের হিসাবটা ঠিক করে দেয় Education Malaysia Global Services বা EMGS—উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন যে প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আবেদন যায়। তাদের নির্দেশনা স্পষ্ট: নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্যানেল ক্লিনিকে মেডিকেল স্ক্রিনিং করাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এর ওপর নিজেদের সময়সীমা যোগ করে। যেমন Monash University Malaysia শিক্ষার্থীদের বলে, পৌঁছানোর সাত দিনের মধ্যে স্ক্রিনিং শেষ করে পাসপোর্ট তাদের International Student Pass অফিসে জমা দিতে।
EMGS বলছে, আপনি মালয়েশিয়ায় ঢোকার তারিখ থেকেই বাধ্যতামূলক মেডিকেল বিমা কার্যকর হবে—যদি পৌঁছেই প্রতিষ্ঠানকে সেই তারিখ জানিয়ে দেন। যাঁরা ই-মেইল পাঠাতে এক সপ্তাহ দেরি করেন, তাঁদের কয়েকটি দিন অনিশ্চিত কাভারেজে কেটে যায়। অথচ ঠিক ওই দিনগুলোতেই নতুন শহরে নতুন ক্লিনিকে ছোটাছুটি করতে হয়।
মেডিকেল স্ক্রিনিং এড়ানোর সুযোগ কেন নেই?
কারণ এটি না হলে পরের কোনো ধাপই এগোয় না। EMGS পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী দেশে পৌঁছে স্ক্রিনিং না করালে তারা student pass endorsement প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না, স্টিকার endorsement-এর সাপোর্টিং লেটারও দিতে পারবে না। স্ক্রিনিং না হলে endorsement নেই, endorsement না হলে i-Kad নেই—আর endorsement ছাড়া পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণও করা যায় না।
স্ক্রিনিংটা সাধারণ ব্যাপার: EMGS-অনুমোদিত ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঙ্গে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা। ক্লিনিকের মূল রসিদটি যত্ন করে রাখবেন—পাসপোর্টের সঙ্গে ওটিও প্রতিষ্ঠান চাইবে। পুরোনো pass নবায়ন করলে স্ক্রিনিং লাগে না। তবে যাঁরা মালয়েশিয়ায় থেকেই কোর্স বা প্রতিষ্ঠান বদলাচ্ছেন কিংবা উচ্চতর স্তরে যাচ্ছেন, তাঁদের আগের স্ক্রিনিং যদি নতুন আবেদনের ৯০ দিনের বেশি আগে হয়ে থাকে, তবে আবার করাতে হবে।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেন?
কারণ আপনার পাসপোর্ট কয়েক সপ্তাহের জন্য হাতছাড়া হতে যাচ্ছে, আর মালয়েশিয়ার কোনো ব্যাংক মূল পাসপোর্ট না দেখে অ্যাকাউন্ট খুলবে না। Monash-এর নিজস্ব নির্দেশনায় এক লাইনেই কথাটা আছে: মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ের পরপরই পাসপোর্ট pass অফিসে জমা দিন, তবে জমা দেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেছে। এই এক বাক্যটিই এই লেখার সবচেয়ে দামি তথ্য।
যাঁরা ক্রমটা উল্টে ফেলেন, তাঁরা এমন এক অচলাবস্থায় পড়েন যা বাইরে থেকে হাস্যকর মনে হয়। পাসপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল অফিসে। ব্যাংকের দরকার পাসপোর্ট। বাড়িওয়ালা ব্যাংক ট্রান্সফারে জামানত চান। দেশ থেকে পাঠানো টাকা রেমিট্যান্স অ্যাপে পড়ে আছে, নামার জায়গা নেই। endorsement হওয়া পাসপোর্ট ফিরে এলে সব মিটে যায়—তবে তাতে মাসখানেক বা তার বেশি লাগতে পারে, আর পুরো সময়টা নগদে চলতে হয়।

ব্যাংক আসলে কোন কাগজগুলো চায়?
মূল পাসপোর্ট, আর প্রতিষ্ঠানের একটি চিঠি। এর বাইরে ব্যাংকভেদে, এমনকি শাখাভেদে চাহিদা বদলায়। তাই তর্ক নিয়ে নয়, মোটা একটা ফাইল নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
একটি কাগজের কথা অনেক শিক্ষার্থী কখনো শোনেনইনি। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে EMGS শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের STARS সিস্টেম থেকে সরাসরি ব্যাংকের জন্য ভেরিফিকেশন লেটার তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে—ইমিগ্রেশন বিভাগ student pass দেওয়ার পর। এই চিঠি ব্যাংককে নিশ্চিত করে যে আপনার pass সত্যিই অনুমোদিত, আর তাতে আপনার বর্তমান প্রতিষ্ঠানের নামও থাকে। চিঠিটি প্রতিষ্ঠান ডাউনলোড করে দেয়—আপনাকে চেয়ে নিতে হবে। কিছু ব্যাংক এটি ছাড়া এগোয় না।
- মূল পাসপোর্ট, এন্ট্রি স্ট্যাম্পসহ এবং পাওয়া গেলে student pass স্টিকারসহ
- ইন্টারন্যাশনাল অফিসের প্যাডে দেওয়া পরিচয় বা নিশ্চয়তার চিঠি
- STARS থেকে প্রতিষ্ঠানের বের করে দেওয়া EMGS ব্যাংক ভেরিফিকেশন লেটার
- অফার লেটার আর চলমান ভর্তির প্রমাণ
- স্থানীয় ঠিকানা, সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি বা নিজের নামে কোনো বিল
- চালু ও নিবন্ধিত একটি স্থানীয় মোবাইল নম্বর
SIM নিবন্ধনের ২০২৬ সালের নিয়ম কী বদলাল?
নিয়ম কড়া হয়েছে, আর কাজটা এখন সশরীরে করতে হয়। Malaysian Communications and Multimedia Commission বা MCMC ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রিপেইড সেলুলার সেবার গ্রাহক নিবন্ধনের নতুন Mandatory Standard কার্যকর করেছে—Communications and Multimedia Act 1998-এর ৫৫ ও ১০৪(১)(খ) ধারার অধীনে, যা প্রায় এক দশক ধরে চলা ২০১৭ সালের নির্দেশিকার জায়গা নিয়েছে।
এর তিনটি দিক আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, অ-নাগরিকেরা প্রতি মোবাইল অপারেটরে সর্বোচ্চ দুটি প্রিপেইড SIM রাখতে পারবেন, যেখানে মালয়েশীয় নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সংখ্যাটি পাঁচ। দ্বিতীয়ত, নিবন্ধনের সময় মূল পরিচয়পত্র দেখাতে হবে—পাসপোর্টের ফটোকপি, স্ক্যান বা ছবি আর চলবে না। অর্থাৎ ফোনের গ্যালারিতে রাখা পাসপোর্টের ছবিটি কাজে আসবে না। তৃতীয়ত, বিদেশিদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশনে যাচাই হয়, তাই সার্ভিস সেন্টারে সশরীরে যেতেই হবে। টেলিকম অ্যাপে নিজে নিজে নিবন্ধনের পথটি চলে MyDigital ID দিয়ে—মালয়েশিয়ার জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়, যা আপনার থাকবে না।
বিমানবন্দরে কিছু কেনার আগে আরেকটি তথ্য জেনে রাখুন: ট্যুরিস্ট প্রিপেইড SIM-এর মেয়াদ এখন সর্বোচ্চ তিন মাস, এরপর এগুলো আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। অ্যারাইভাল থেকে বেরোনোর পথে কোনো কাউন্টার ‘ট্যুরিস্ট প্যাক’ ধরিয়ে দিতে চাইলে বুঝে নিন কী কিনছেন—প্রথম সেমিস্টারের মাঝপথেই নম্বরটি মরে যেতে পারে।
i-Kad কী, আর কোন কাজে এটি চলবে না?
শিক্ষার্থী হিসেবে i-Kad-ই মালয়েশিয়ায় আপনার পরিচয়পত্র—ছবি ও তথ্যসহ একটি বায়োমেট্রিক কার্ড, যা পাসপোর্টে student pass endorsement হওয়ার পর দেওয়া হয়। এর আবেদন student pass আবেদনের সঙ্গেই জমা পড়ে, তাই আলাদা করে দৌড়াতে হয় না—কেবল ধাপগুলোর শেষে এসে হাতে আসে।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা, এরপর আর পাসপোর্ট নিয়ে ঘোরার দরকার হয় না। Monash-এর ভাষ্য অনুযায়ী, উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগ বিদেশি নাগরিকদের জন্য একমাত্র বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবে i-Kad-কেই স্বীকৃতি দেয়, আর শিক্ষার্থীদের সবসময় এটি সঙ্গে রাখতে বলা হয়। পুলিশ পরিচয় জানতে চাইলে এটিই দেখাবেন।
সীমাবদ্ধতাগুলোও সমান জরুরি। i-Kad কোনো ভ্রমণ নথি নয়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে তো নয়ই, উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়া থেকে সাবাহ বা সারাওয়াকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নয়—ওই যাত্রাগুলো ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সমান, পাসপোর্ট লাগে। আর endorsement-এর জন্য পাসপোর্ট যতক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কাছে, ততক্ষণ দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনাই করবেন না; হাতে থাকবে পাসপোর্ট জমার রসিদ, আর অপেক্ষা।
i-Kad হারালে বা নষ্ট হলে নতুন কার্ডের আগে থানায় জিডি করতে হয়। Monash-এর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী কার্ড নষ্ট হলে বা প্রথমবার হারালে RM150, দ্বিতীয়বারে RM300 আর তৃতীয় বা পরের বার RM500—অর্থাৎ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার ১০০ টাকা। এর বাইরে আলাদা একটি special pass আছে, সাধারণত ১৪ থেকে ৩০ দিনের মেয়াদে RM100 খরচে, যা কোর্স বা প্রতিষ্ঠান বদলানোর সময় নতুন student pass অনুমোদনের অপেক্ষায় লাগে।
প্রথম বছরে pass, i-Kad, বিমা আর স্ক্রিনিং বাবদ খরচ কত?
শিক্ষার্থীরা যত ধরে রাখেন, তার চেয়ে বেশি—কারণ এই খরচগুলো টিউশন ফি বা বাসাভাড়ার বাইরে। নিচের ছকটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ১২ মাসের student pass-এর হিসাব, যা সব মিলিয়ে প্রায় RM2,515। আপনার প্রতিষ্ঠানের অঙ্ক আলাদা হবে, তবে খাতগুলো একই থাকবে।
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক টাকা | উৎস |
|---|---|---|---|
| EMGS প্রসেসিং ফি | RM1,060 | ৩১,৯৬০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| Student pass ফি | RM60 | ১,৮১০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| eVAL ফি | RM159 | ৪,৭৯০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| i-Kad | RM50 | ১,৫১০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা | RM50 | ১,৫১০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| মেডিকেল স্ক্রিনিং | RM250 | ৭,৫৪০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| মেডিকেল বিমা, ১২ মাস | RM884 | ২৬,৬৫০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
| মোট, ১২ মাসের pass | RM2,515 | ৭৫,৮৩০ | এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব |
রূপান্তরে ধরা হয়েছে RM1 = ৩০.১৫ টাকা (open.er-api.com, ১৩ আগস্ট ২০২৬)। বিনিময় হার প্রতিদিন বদলায়, তাই টাকার ঘরটি কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য।
এর মধ্যে বিমাই একমাত্র খাত, যেখানে কিছুটা বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। EMGS তিনটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের প্রিমিয়াম প্রকাশ করেছে, আর পার্থক্যটা কম নয়:
| প্রতিষ্ঠান | প্ল্যান | কাভার | প্রিমিয়াম | GP ডিডাক্টিবল |
|---|---|---|---|---|
| Etiqa | Plan 2 | RM30,000 | RM498 | RM50 |
| Etiqa | Plan 3 | RM50,000 | RM567 | RM50 |
| Great Eastern | Regular | RM30,000 | RM547 | লাগে না |
| Great Eastern | Premium | RM50,000 | RM640 | লাগে না |
| Pacific | Gold | RM30,000 | RM551 | RM25 |
| Pacific | Platinum | RM50,000 | RM644 | RM25 |
প্রিমিয়ামগুলো বার্ষিক, ১৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য, EMGS-এর ২০২৬ সালের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী। কাভার মানে প্রতি অসুস্থতায় সর্বোচ্চ সীমা। ডিডাক্টিবলের ঘরটি খেয়াল করুন—সবচেয়ে সস্তা প্ল্যানে প্রতিবার ডাক্তার দেখাতে নিজের পকেট থেকে RM50 যায়। মালয়েশিয়ার বর্ষায় বুকের সংক্রমণ নিয়ে বারবার ক্লিনিকে গেলে হিসাবটা দ্রুত উল্টে যায়।
পড়ার পুরো সময়জুড়ে বৈধ মেডিকেল বিমা বাধ্যতামূলক। student pass শেষ হওয়ার আগেই বিমার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে EMGS সেটি টপ-আপ বা বাড়িয়ে নিতে বলে—চলতি pass-এর মেয়াদ পর্যন্ত, কিংবা বিমা শুরুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাস, এ দুটির মধ্যে যেটি কম। মেয়াদোত্তীর্ণ পলিসি কেবল ক্লিনিকে নয়, নবায়নের সময়ও ঝামেলা তৈরি করে।
দেশ থেকে কত নগদ আনা যায়, বাকিটা কীভাবে পাঠাবেন?
ঘোষণা ছাড়া মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পর্যন্ত নগদ ও বেয়ারার নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আনা-নেওয়া যায়। এর সমান বা বেশি হলে Royal Malaysian Customs Department-এর নিয়মে Customs Form No. 7-এ ঘোষণা দিতে হয়, যে ফরম প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টের কাস্টমস কাউন্টারে পাওয়া যায়—আইনি ভিত্তি Anti-Money Laundering and Anti-Terrorism Financing Act 2001। আজকের হারে ১০ হাজার ডলার মানে প্রায় RM40,900, অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রথম বছরের জন্য পরিবার এই অঙ্কই হাতে তুলে দিতে পারে, তাই সীমাটি কাগুজে নয়—বাস্তব।
তবে বড় অঙ্কের টাকা স্যুটকেসে যাওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের Guidelines for Foreign Exchange Transactions অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের রেমিট্যান্স যায় অনুমোদিত ডিলার বা AD ব্যাংকের মাধ্যমে, আর সেখানকার নিয়মই আপনার কাগজপত্রের ধরন ঠিক করে দেয়। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া খরচের হিসাবের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় হয়, এক দফায় সর্বোচ্চ এক শিক্ষাবর্ষের জন্য। পরের প্রতিটি ছাড়ের জন্য লাগে হালনাগাদ প্রগ্রেস রিপোর্ট আর নতুন হিসাব। টিউশন ফি যায় প্রতিষ্ঠানের নামে, আপনার নামে নয়। আর পুরো কোর্সের সব লেনদেন একটিই AD শাখার মাধ্যমে হতে হবে—ফাইলটি ব্যাংকের কাছেই থাকে, শাখা বদল হলেও তা শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিমার খরচ পাঠানো যায়, যদি প্রতিষ্ঠানের কাগজে দেখা যায় যে সেটি বাধ্যতামূলক। মালয়েশিয়ায় তা স্পষ্টতই বাধ্যতামূলক—EMGS প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য বিমা বাধ্যতামূলক করেছে। তাই প্রতিষ্ঠানকে বলুন, খরচের হিসাবে EMGS বিমার প্রিমিয়াম, মেডিকেল স্ক্রিনিং ফি আর student pass বাবদ খরচগুলো আলাদা লাইনে লিখে দিতে—সব একসঙ্গে টিউশনের অঙ্কে না মিশিয়ে। ছোট্ট একটি অনুরোধ, অথচ এতে আপনার AD ব্যাংক টাকাগুলো নির্বিঘ্নে ছাড় করতে পারে। না হলে পৌঁছে ওই টাকা নগদে জোগাড় করতে হয়।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি
প্রতিটি ইনটেকেই একই তিনটি ভুল ফিরে আসে। কেউ নিয়মনিষ্ঠ হতে গিয়ে দ্বিতীয় দিনেই ইন্টারন্যাশনাল অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেন, তারপর পাঁচ সপ্তাহ অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন না, বাসার চুক্তিও করতে পারেন না। কেউ বিমানবন্দরের কাউন্টার থেকে SIM কেনেন কোন ধরনের নিবন্ধন হচ্ছে না জেনেই, নভেম্বরে দেখেন নম্বর বন্ধ। আর কোনো পরিবার পুরো বছরের টাকা একটিমাত্র টিউশন অঙ্কের বিপরীতে পাঠিয়ে দেয়, ফলে বিমার প্রিমিয়াম আর স্ক্রিনিং ফি রিঙ্গিতে জোগাড় করতে হয়—যার পরিকল্পনা কেউ করেনি।
এর কোনোটিই ভিসার সমস্যা নয়। প্রতিটিই ক্রমের সমস্যা। আর ক্রম ঠিক করার কাজটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের চেকলিস্ট করে দেয় না—কারণ প্রতিটি অফিস কেবল নিজের কাউন্টারটাই দেখে। যাত্রার আগের দুই সপ্তাহে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই কাজটাই করি। আর এ কারণেই বিমানবন্দরে ফাইল বন্ধ না করে পৌঁছানোর পরও আমরা নাগালের মধ্যে থাকি।
ওড়ার আগেই পৌঁছানোর তারিখ জানান
বিমার কাভারেজ আর pass অফিস—দুটোই এই তারিখ ধরে চলে। টিকিট কাটার দিনই ই-মেইল করুন, নামার দিন নয়।
দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেই ক্লিনিকের সময় নিন
৭ কার্যদিবস শুনতে অনেক, কিন্তু ওরিয়েন্টেশন সপ্তাহেই তা ফুরিয়ে যায়। EMGS প্যানেল ক্লিনিকের তালিকা দেয়, তাদের অ্যাপে কাছের ক্লিনিকও খুঁজে পাওয়া যায়।
EMGS ব্যাংক ভেরিফিকেশন লেটার চেয়ে নিন
প্রতিষ্ঠান এটি STARS থেকে বের করে দেয়। পৌঁছানোর তারিখ জানানোর ই-মেইলেই চেয়ে রাখুন, যাতে ব্যাংকে ঢোকার সময় হাতে থাকে।
আগে ব্যাংক, তারপর SIM, সবার শেষে পাসপোর্ট
ব্যাংক আর টেলিকম—দুই জায়গাতেই মূল পাসপোর্ট হাতে থাকা লাগে। endorsement-এর সারিতে পাসপোর্ট যাওয়ার আগেই এ দুটি সেরে ফেলুন।
প্রতিটি রসিদ যত্নে রাখুন
ক্লিনিকের রসিদ, pass অফিসের পাসপোর্ট জমার রসিদ, SIM নিবন্ধনের স্লিপ—পরের কোনো না কোনো কাউন্টার ঠিক এগুলোই প্রমাণ হিসেবে চাইবে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার student visa প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর প্রকৃত জীবনযাত্রার খরচ। পড়ার পাশাপাশি কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে কিছু গ্রহণ করার আগে মালয়েশিয়ায় খণ্ডকালীন কাজের নিয়ম দেখে নিন। এখানে ব্যবহৃত সরকারি উৎস: EMGS মেডিকেল স্ক্রিনিং নির্দেশনা এবং Royal Malaysian Customs-এর ভ্রমণ নির্দেশিকা।
ক্রমটা ঠিক করে নিয়েই রওনা দিন
অফার লেটার আর ফ্লাইটের তারিখ পাঠিয়ে দিন—আপনার নিজের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ধরে আমরা প্রথম দুই সপ্তাহের পরিকল্পনা সাজিয়ে দেব। কোন ক্লিনিক, কোন ব্যাংকের শাখা, কোন চিঠি আগে চেয়ে রাখতে হবে, আর ঠিক কখন পাসপোর্ট হাতছাড়া করা নিরাপদ। খরচের হিসাবপত্রটি কীভাবে সাজালে কোনো টাকা দুবার দিতে হবে না, পরিবারকে সেটিও বুঝিয়ে দেব। একটি কথোপকথন, কোনো খরচ নেই।
ফ্রি পরামর্শ নিন →


