Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা: বাংলাদেশিদের পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট

২০২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য UK শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত: CAS, ২৮ দিনের ব্যাংক নিয়ম, TB test, ফি আর সেই চেকলিস্ট — যা প্রত্যাখ্যান ঠেকায়।

প্রকাশিত 19 Jul, 2026

Read in English →
২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা: বাংলাদেশিদের পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট

প্রতি বছর শরৎ এলেই বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী ল্যাপটপ খুলে GOV.UK-এর পাতায় চোখ রাখেন, আর ভাবেন — শুরুটা করব কোথা থেকে? এদিকে CAS নম্বর, ওদিকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, তার মাঝে Gulshan-2-এ TB test — যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসাকে অনেকের কাছে পঞ্চাশ টুকরার ধাঁধা মনে হয়। সুখবর হলো, ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসার শর্তগুলো আসলে একটি পরিষ্কার, ধাপে ধাপে সাজানো তালিকা। একবার বুঝে নিলে ধাঁধাটাই হয়ে যায় পরিকল্পনা।

£৫৫৮ভিসা আবেদন ফি (যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে)
£১,৫২৯লন্ডনের কোর্সে মাসপ্রতি দেখাতে হবে
২৮ দিনটাকা ব্যাংকে অবিচ্ছিন্নভাবে রাখতে হবে
~৩ সপ্তাহবাংলাদেশ থেকে সাধারণ সিদ্ধান্তের সময়

২০২৭ সালে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

বাংলাদেশের প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য মূল শর্ত একই: CAS, অর্থের প্রমাণ, পাসপোর্ট, ইংরেজি দক্ষতা আর TB সনদ। বাকি সবকিছু এই পাঁচ স্তম্ভের ওপরই দাঁড়িয়ে।

📋 কাগজপত্রের তালিকা
  • বৈধ পাসপোর্ট (অন্তত একটি খালি পাতাসহ)
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া CAS — Confirmation of Acceptance for Studies
  • টিউশন ও থাকা-খাওয়ার খরচ ঢেকে দেয় এমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অনুমোদিত ঋণ/বৃত্তির চিঠি — টানা ২৮ দিন রাখা
  • CAS পেতে ব্যবহৃত শিক্ষাগত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
  • অনুমোদিত ইংরেজি পরীক্ষা (যেমন IELTS for UKVI) বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন
  • বাংলাদেশে UKVI-অনুমোদিত IOM ক্লিনিকের TB test সনদ
  • ATAS সনদ — শুধু নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর বিজ্ঞান/প্রকৌশল স্নাতকোত্তর কোর্সে
  • গত ১২ মাসে বৃত্তি পেয়ে থাকলে: স্পনসরের লিখিত সম্মতি

বয়স ১৮-এর নিচে হলে অভিভাবকের সম্মতিপত্রও লাগবে। পাশাপাশি অনেককে credibility interview-এর ধাপে বাড়তি কাগজ দেখাতে বলা হয় — সে কথায় একটু পরে আসছি।

কত টাকা দেখাতে হবে?

অপরিশোধিত টিউশন ফির সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মাসের থাকা-খাওয়ার খরচ দেখাতে হবে: লন্ডনের কোর্সে মাসে £১,৫২৯, লন্ডনের বাইরে £১,১৭১। অর্থাৎ লন্ডনের জন্য £১৩,৭৬১ পর্যন্ত (প্রায় ৳২২–২৩ লাখ), অন্য শহরে £১০,৫৩৯ (প্রায় ৳১৭–১৮ লাখ) — সঙ্গে প্রথম বছরের বাকি টিউশন।

টাকা নিজের নামে বা মা-বাবার নামে থাকতে পারে (সম্মতিপত্র ও সম্পর্কের প্রমাণসহ)। Eduvisa-তে আমরা দেখি, অন্য যেকোনো কারণের চেয়ে ভুল সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টেই বেশি আবেদন বাতিল হয় — সবচেয়ে সাদামাটা কাগজটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

CAS কী, কখন হাতে পাবেন?

CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) একটি ইলেকট্রনিক রেফারেন্স নম্বর, যা শর্তহীন অফার গ্রহণ ও সাধারণত ডিপোজিট দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যু করে। CAS ছাড়া ভিসার আবেদনই করা যায় না, আর কোর্স শুরুর ৬ মাসের বেশি আগে আবেদন করা যায় না।

UK শিক্ষার্থী ভিসা পেয়ে লন্ডনের Tower Bridge-এ বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাজ্যে পড়ার শুরুটা একটি গোছানো আবেদন দিয়েই।

TB test আর IELTS কি বাধ্যতামূলক?

যক্ষ্মা পরীক্ষার বেলায় উত্তর হলো — বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ UK-র TB-test তালিকায় আছে, তাই আবেদনের আগে UKVI-অনুমোদিত IOM ক্লিনিক থেকে সনদ নিতে হবে — ঢাকার Gulshan-2 বা সিলেটে। সনদটি সাধারণত ৬ মাস বৈধ থাকে, তাই খুব আগেভাগে পরীক্ষা করিয়ে ফেলবেন না।

ইংরেজির নিয়ম তুলনায় নমনীয়। স্নাতক পর্যায়ের কোর্সে সাধারণত CEFR B2 মানের ইংরেজি লাগে, যা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী IELTS for UKVI দিয়ে দেখান। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই ইংরেজি যাচাই করতে পারে — কেউ কেউ ভালো HSC/স্নাতক ফল বা ইন্টারভিউ দিয়েই সন্তুষ্ট। পরীক্ষার তারিখ নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন; এতে টাকা আর সপ্তাহখানেকের অপেক্ষা — দুটোই বাঁচে।

কখন, কীভাবে আবেদন করবেন?

আবেদন পুরোটাই অনলাইনে, বায়োমেট্রিক্স হয় বাংলাদেশের VFS Global কেন্দ্রে, আর বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত আসে মোটামুটি ৩ সপ্তাহে। সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে পেছনে হিসাব করলে:

  1. এখন থেকে ২০২৬-এর শেষ: বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, দরকার হলে IELTS প্রস্তুতি, SOP ও রেফারেন্সসহ আবেদন।
  2. ২০২৭-এর শুরু: অফার আসবে; একটি বেছে নিন; অর্থের পরিকল্পনা করে টাকা জমাতে শুরু করুন।
  3. মে–জুলাই ২০২৭: অফার গ্রহণ, ডিপোজিট, CAS হাতে; TB test-এর তারিখ নিন।
  4. জুন–আগস্ট ২০২৭: ২৮ দিনের হোল্ডিং সম্পূর্ণ করুন; কাগজপত্র গুছিয়ে নিন।
  5. জুলাই–আগস্ট ২০২৭: অনলাইনে আবেদন, £৫৫৮ ফি ও IHS (বছরে £৭৭৬) পরিশোধ, VFS-এ বায়োমেট্রিক্স।
  6. আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৭: eVisa আকারে সিদ্ধান্ত; টিকিট আর থাকার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করুন।

সেপ্টেম্বর ফসকে গেল? জানুয়ারি সেশনেও তালিকা একই, শুধু সময় খানিকটা চাপা — CAS আসে মোটামুটি অক্টোবর–নভেম্বর ২০২৭-এ।

কোন ভুলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়?

চারটি ভুলই বেশি ভোগায়: ২৮ দিনের নিয়ম ভাঙা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, credibility interview-এ দুর্বল বা মুখস্থ উত্তর, কাগজে কাগজে অমিল (নাম, তারিখ, স্পনসর) আর মেয়াদোত্তীর্ণ TB সনদে আবেদন। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই গড়ের চেয়ে কড়া হয়, অনেককে ইন্টারভিউতে নিজের ভাষায় বোঝাতে হয় — কেন এই কোর্স, কেন এই বিশ্ববিদ্যালয়, কেন এই দেশ।

প্রত্যাখ্যানের পুরো তালিকা আর genuine student যাচাই কীভাবে হয়, তা নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে — নিচে লিংক পাবেন।

২০২৭ সালে নতুন কী?

তিনটি পরিবর্তন মনে রাখুন। সবার আগে, UK এখন পুরোপুরি ডিজিটাল: পাসপোর্টে স্টিকার বা BRP কার্ডের বদলে পাবেন eVisa। এরপর, পড়া শেষের Graduate Route ১ জানুয়ারি ২০২৭ বা তার পরের আবেদনে ১৮ মাসের (PhD হলে ৩ বছর)। আর পরিবার আনার সুযোগ আগের মতোই সীমিত — শুধু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও সরকারি বৃত্তিধারীরা নির্ভরশীল আনতে পারবেন; স্নাতক ও শিক্ষাদানভিত্তিক (taught) স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পারবেন না।

ওপরের ফি, অর্থের অঙ্ক ও নিয়মগুলো ২০২৬-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত GOV.UK ও দাপ্তরিক সূত্রে যাচাই করা; ২০২৭ সেশনের আগে বদলাতে পারে — Home Office সাধারণত প্রতি বছর ফি ও অর্থের মান পর্যালোচনা করে। টাকার হিসাব আনুমানিক ৳১৬৬/পাউন্ড ধরে, যা প্রতিদিন ওঠানামা করে। আবেদনের আগে GOV.UK-এর Student visa পাতা ও TB test নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।

পুরো আবেদনে খরচ কত?

খাতঅঙ্কআপনার বেলায়?
ভিসা আবেদন ফি£৫৫৮ (≈ ৳৯২ হাজার)সবাই
স্বাস্থ্য সারচার্জ (IHS)বছরে £৭৭৬ (≈ ৳১.৩ লাখ)সবাই
থাকা-খাওয়ার তহবিল — লন্ডনমাসে £১,৫২৯, সর্বোচ্চ ৯ মাসলন্ডনের কোর্স
থাকা-খাওয়ার তহবিল — লন্ডনের বাইরেমাসে £১,১৭১, সর্বোচ্চ ৯ মাসঅন্য শহর
TB test (IOM ক্লিনিক)পরিবর্তনশীল — IOM Dhaka থেকে জেনে নিনবাংলাদেশের সব আবেদনকারী
ATAS সনদবিনা মূল্যে, তবে কয়েক সপ্তাহ লাগেশুধু স্পর্শকাতর PG বিষয়

Eduvisa কীভাবে প্রথমবারেই কাজটা ঠিকঠাক করায়?

Eduvisa-তে প্রতি সপ্তাহে আমরা একটা জিনিসই বারবার দেখি — ভিসা প্রত্যাখ্যান হয় দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য নয়, দুর্বল ফাইলের জন্য। ২৭ দিনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে মেধাবী আবেদনকারীও আটকে যান; অথচ গোছানো, সামঞ্জস্যপূর্ণ, সঠিক সময়ের ফাইল নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীও পার হয়ে যান। আমাদের দল প্রতিটি কাগজ হালনাগাদ GOV.UK শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে, আপনার সঙ্গে credibility interview-এর অনুশীলন করায়, আর — বেশিরভাগ কনসালটেন্সির মতো নয় — আপনি পৌঁছানোর পরও পাশে থাকে: এয়ারপোর্ট থেকে বাসা, SIM, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর নতুন দেশের প্রথম এলোমেলো সপ্তাহটা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ ও প্রতিকার · যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার খরচ

২০২৭ সেশনে UK যেতে চান?

কাগজপত্র নিয়ে আসুন — বা শুধু প্রশ্নগুলোই আনুন। আমাদের UK টিমের সঙ্গে বিনা মূল্যের পরামর্শে বসুন; সেপ্টেম্বর ২০২৭ বা জানুয়ারি সেশন ধরে আপনার ব্যক্তিগত সময়রেখা সাজিয়ে দেব, প্রকৃত শর্তের সঙ্গে আর্থিক প্রস্তুতি মিলিয়ে দেখব, আর আপনার ফাইল কোথায় দাঁড়িয়ে তা খোলাখুলি জানাব।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

সম্পর্কিত পোস্ট

বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক কাগজপত্র (২০২৭): ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পন্সর ও সাধারণ ভুল

স্টাডি ভিসার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পন্সর লেটার ও আয়ের প্রমাণ কীভাবে প্রস্তুত করবেন এবং কোন ভুলগুলো সমস্যা তৈরি করে।

আরও পড়ুন

স্টাডি ভিসার জন্য শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) কীভাবে লিখবেন (২০২৭)

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ও স্টাডি ভিসা আবেদনে SOP লেখার ধাপে ধাপে গাইড: কাঠামো, অফিসাররা কী দেখেন এবং সাধারণ ভুল।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ই-ভিসা ২০২৭: ফি, আবেদন ও খরচ

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ই-ভিসা ২০২৭: ফি, আবেদন ও খরচ

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ই-ভিসা ২০২৭: অফিসিয়াল ফি US$২৫, ৯০ দিন থাকার সুযোগ, ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন আর ৬ দিনের ভ্রমণের টাকার হিসাব।

আরও পড়ুন

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন