প্রতি বছর শরৎ এলেই বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী ল্যাপটপ খুলে GOV.UK-এর পাতায় চোখ রাখেন, আর ভাবেন — শুরুটা করব কোথা থেকে? এদিকে CAS নম্বর, ওদিকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, তার মাঝে Gulshan-2-এ TB test — যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসাকে অনেকের কাছে পঞ্চাশ টুকরার ধাঁধা মনে হয়। সুখবর হলো, ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসার শর্তগুলো আসলে একটি পরিষ্কার, ধাপে ধাপে সাজানো তালিকা। একবার বুঝে নিলে ধাঁধাটাই হয়ে যায় পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ থেকে UK Student ভিসা পেতে লাগবে লাইসেন্সধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের CAS, টানা ২৮ দিন ব্যাংকে রাখা অর্থের প্রমাণ (লন্ডনে মাসে £১,৫২৯, অন্যত্র £১,১৭১, সর্বোচ্চ ৯ মাস), বৈধ পাসপোর্ট, অনুমোদিত ইংরেজি পরীক্ষার ফল, IOM ক্লিনিকের TB test সনদ, £৫৫৮ ফি এবং স্বাস্থ্য সারচার্জ (IHS)।
২০২৭ সালে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
বাংলাদেশের প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য মূল শর্ত একই: CAS, অর্থের প্রমাণ, পাসপোর্ট, ইংরেজি দক্ষতা আর TB সনদ। বাকি সবকিছু এই পাঁচ স্তম্ভের ওপরই দাঁড়িয়ে।
- বৈধ পাসপোর্ট (অন্তত একটি খালি পাতাসহ)
- বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া CAS — Confirmation of Acceptance for Studies
- টিউশন ও থাকা-খাওয়ার খরচ ঢেকে দেয় এমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অনুমোদিত ঋণ/বৃত্তির চিঠি — টানা ২৮ দিন রাখা
- CAS পেতে ব্যবহৃত শিক্ষাগত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- অনুমোদিত ইংরেজি পরীক্ষা (যেমন IELTS for UKVI) বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন
- বাংলাদেশে UKVI-অনুমোদিত IOM ক্লিনিকের TB test সনদ
- ATAS সনদ — শুধু নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর বিজ্ঞান/প্রকৌশল স্নাতকোত্তর কোর্সে
- গত ১২ মাসে বৃত্তি পেয়ে থাকলে: স্পনসরের লিখিত সম্মতি
বয়স ১৮-এর নিচে হলে অভিভাবকের সম্মতিপত্রও লাগবে। পাশাপাশি অনেককে credibility interview-এর ধাপে বাড়তি কাগজ দেখাতে বলা হয় — সে কথায় একটু পরে আসছি।
কত টাকা দেখাতে হবে?
অপরিশোধিত টিউশন ফির সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মাসের থাকা-খাওয়ার খরচ দেখাতে হবে: লন্ডনের কোর্সে মাসে £১,৫২৯, লন্ডনের বাইরে £১,১৭১। অর্থাৎ লন্ডনের জন্য £১৩,৭৬১ পর্যন্ত (প্রায় ৳২২–২৩ লাখ), অন্য শহরে £১০,৫৩৯ (প্রায় ৳১৭–১৮ লাখ) — সঙ্গে প্রথম বছরের বাকি টিউশন।
পুরো অঙ্কটি গ্রহণযোগ্য অ্যাকাউন্টে টানা ২৮ দিন থাকতে হবে, আর স্টেটমেন্টের শেষ তারিখ হতে হবে আবেদনের ৩১ দিনের মধ্যে। একদিনের জন্যও ব্যালান্স নিচে নামলে হিসাব আবার শূন্য থেকে শুরু। তবু আবেদন জমা দিলে ফল একটাই — প্রত্যাখ্যান।
টাকা নিজের নামে বা মা-বাবার নামে থাকতে পারে (সম্মতিপত্র ও সম্পর্কের প্রমাণসহ)। Eduvisa-তে আমরা দেখি, অন্য যেকোনো কারণের চেয়ে ভুল সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টেই বেশি আবেদন বাতিল হয় — সবচেয়ে সাদামাটা কাগজটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
CAS কী, কখন হাতে পাবেন?
CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) একটি ইলেকট্রনিক রেফারেন্স নম্বর, যা শর্তহীন অফার গ্রহণ ও সাধারণত ডিপোজিট দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যু করে। CAS ছাড়া ভিসার আবেদনই করা যায় না, আর কোর্স শুরুর ৬ মাসের বেশি আগে আবেদন করা যায় না।
সেপ্টেম্বর ২০২৭ মূল সেশনের জন্য বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় মে থেকে আগস্ট ২০২৭-এর মধ্যে CAS দেয়। পেছন থেকে হিসাব করুন: বসন্তের মধ্যে অফার, গ্রীষ্মের শুরুতে ডিপোজিট, আবেদনের আগে ২৮ দিন টাকা জমা। সময় ফসকে গেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের জানুয়ারি ২০২৮ সেশন আপনার বিকল্প — এটি দেরি মাত্র, পথ বন্ধ নয়।

TB test আর IELTS কি বাধ্যতামূলক?
যক্ষ্মা পরীক্ষার বেলায় উত্তর হলো — বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ UK-র TB-test তালিকায় আছে, তাই আবেদনের আগে UKVI-অনুমোদিত IOM ক্লিনিক থেকে সনদ নিতে হবে — ঢাকার Gulshan-2 বা সিলেটে। সনদটি সাধারণত ৬ মাস বৈধ থাকে, তাই খুব আগেভাগে পরীক্ষা করিয়ে ফেলবেন না।
ইংরেজির নিয়ম তুলনায় নমনীয়। স্নাতক পর্যায়ের কোর্সে সাধারণত CEFR B2 মানের ইংরেজি লাগে, যা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী IELTS for UKVI দিয়ে দেখান। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই ইংরেজি যাচাই করতে পারে — কেউ কেউ ভালো HSC/স্নাতক ফল বা ইন্টারভিউ দিয়েই সন্তুষ্ট। পরীক্ষার তারিখ নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন; এতে টাকা আর সপ্তাহখানেকের অপেক্ষা — দুটোই বাঁচে।
কখন, কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদন পুরোটাই অনলাইনে, বায়োমেট্রিক্স হয় বাংলাদেশের VFS Global কেন্দ্রে, আর বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত আসে মোটামুটি ৩ সপ্তাহে। সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে পেছনে হিসাব করলে:
- এখন থেকে ২০২৬-এর শেষ: বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, দরকার হলে IELTS প্রস্তুতি, SOP ও রেফারেন্সসহ আবেদন।
- ২০২৭-এর শুরু: অফার আসবে; একটি বেছে নিন; অর্থের পরিকল্পনা করে টাকা জমাতে শুরু করুন।
- মে–জুলাই ২০২৭: অফার গ্রহণ, ডিপোজিট, CAS হাতে; TB test-এর তারিখ নিন।
- জুন–আগস্ট ২০২৭: ২৮ দিনের হোল্ডিং সম্পূর্ণ করুন; কাগজপত্র গুছিয়ে নিন।
- জুলাই–আগস্ট ২০২৭: অনলাইনে আবেদন, £৫৫৮ ফি ও IHS (বছরে £৭৭৬) পরিশোধ, VFS-এ বায়োমেট্রিক্স।
- আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৭: eVisa আকারে সিদ্ধান্ত; টিকিট আর থাকার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করুন।
সেপ্টেম্বর ফসকে গেল? জানুয়ারি সেশনেও তালিকা একই, শুধু সময় খানিকটা চাপা — CAS আসে মোটামুটি অক্টোবর–নভেম্বর ২০২৭-এ।
কোন ভুলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়?
চারটি ভুলই বেশি ভোগায়: ২৮ দিনের নিয়ম ভাঙা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, credibility interview-এ দুর্বল বা মুখস্থ উত্তর, কাগজে কাগজে অমিল (নাম, তারিখ, স্পনসর) আর মেয়াদোত্তীর্ণ TB সনদে আবেদন। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই গড়ের চেয়ে কড়া হয়, অনেককে ইন্টারভিউতে নিজের ভাষায় বোঝাতে হয় — কেন এই কোর্স, কেন এই বিশ্ববিদ্যালয়, কেন এই দেশ।
ব্যালান্স "সাময়িকভাবে" ফুলিয়ে দেখাবেন না, ৩১ দিনের পুরোনো শেষ-তারিখের স্টেটমেন্ট জমা দেবেন না, আর মুখস্থ স্ক্রিপ্ট আওড়াবেন না। একবার প্রত্যাখ্যান হলে তা আপনার অভিবাসন রেকর্ডে থেকে যায়, পরের চেষ্টাটাও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রত্যাখ্যানের পুরো তালিকা আর genuine student যাচাই কীভাবে হয়, তা নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে — নিচে লিংক পাবেন।
২০২৭ সালে নতুন কী?
তিনটি পরিবর্তন মনে রাখুন। সবার আগে, UK এখন পুরোপুরি ডিজিটাল: পাসপোর্টে স্টিকার বা BRP কার্ডের বদলে পাবেন eVisa। এরপর, পড়া শেষের Graduate Route ১ জানুয়ারি ২০২৭ বা তার পরের আবেদনে ১৮ মাসের (PhD হলে ৩ বছর)। আর পরিবার আনার সুযোগ আগের মতোই সীমিত — শুধু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও সরকারি বৃত্তিধারীরা নির্ভরশীল আনতে পারবেন; স্নাতক ও শিক্ষাদানভিত্তিক (taught) স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পারবেন না।
পুরো আবেদনে খরচ কত?
| খাত | অঙ্ক | আপনার বেলায়? |
|---|---|---|
| ভিসা আবেদন ফি | £৫৫৮ (≈ ৳৯২ হাজার) | সবাই |
| স্বাস্থ্য সারচার্জ (IHS) | বছরে £৭৭৬ (≈ ৳১.৩ লাখ) | সবাই |
| থাকা-খাওয়ার তহবিল — লন্ডন | মাসে £১,৫২৯, সর্বোচ্চ ৯ মাস | লন্ডনের কোর্স |
| থাকা-খাওয়ার তহবিল — লন্ডনের বাইরে | মাসে £১,১৭১, সর্বোচ্চ ৯ মাস | অন্য শহর |
| TB test (IOM ক্লিনিক) | পরিবর্তনশীল — IOM Dhaka থেকে জেনে নিন | বাংলাদেশের সব আবেদনকারী |
| ATAS সনদ | বিনা মূল্যে, তবে কয়েক সপ্তাহ লাগে | শুধু স্পর্শকাতর PG বিষয় |
Eduvisa কীভাবে প্রথমবারেই কাজটা ঠিকঠাক করায়?
Eduvisa-তে প্রতি সপ্তাহে আমরা একটা জিনিসই বারবার দেখি — ভিসা প্রত্যাখ্যান হয় দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য নয়, দুর্বল ফাইলের জন্য। ২৭ দিনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে মেধাবী আবেদনকারীও আটকে যান; অথচ গোছানো, সামঞ্জস্যপূর্ণ, সঠিক সময়ের ফাইল নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীও পার হয়ে যান। আমাদের দল প্রতিটি কাগজ হালনাগাদ GOV.UK শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে, আপনার সঙ্গে credibility interview-এর অনুশীলন করায়, আর — বেশিরভাগ কনসালটেন্সির মতো নয় — আপনি পৌঁছানোর পরও পাশে থাকে: এয়ারপোর্ট থেকে বাসা, SIM, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর নতুন দেশের প্রথম এলোমেলো সপ্তাহটা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ ও প্রতিকার · যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার খরচ
২০২৭ সেশনে UK যেতে চান?
কাগজপত্র নিয়ে আসুন — বা শুধু প্রশ্নগুলোই আনুন। আমাদের UK টিমের সঙ্গে বিনা মূল্যের পরামর্শে বসুন; সেপ্টেম্বর ২০২৭ বা জানুয়ারি সেশন ধরে আপনার ব্যক্তিগত সময়রেখা সাজিয়ে দেব, প্রকৃত শর্তের সঙ্গে আর্থিক প্রস্তুতি মিলিয়ে দেখব, আর আপনার ফাইল কোথায় দাঁড়িয়ে তা খোলাখুলি জানাব।
ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →
