Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: খরচ, ফান্ড ও প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: সাবক্লাস ৫০০-এর AUD ২,৫০০ ফি, AUD ২৯,৭১০ থাকার খরচের ফান্ড, GS শর্ত, কাগজ আর টাকায় পুরো হিসাব।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 australia

Read in English →
বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: খরচ, ফান্ড ও প্রক্রিয়া

"অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা কত টাকা লাগে?" — বিদেশে পড়া নিয়ে বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নগুলোর একটি, আর তার যথেষ্ট কারণ আছে। ২০২৪ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া কয়েকবার স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম বদলেছে — ফি বেড়েছে, যাচাই কড়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ইনটেকে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসার বাংলাদেশি আবেদনকারীকে বেশি ফি, শক্ত ফান্ডের শর্ত আর জেনুইন স্টুডেন্ট পরীক্ষা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে।

AUD ২,৫০০১ জুলাই ২০২৬ থেকে সাবক্লাস ৫০০ ফি
AUD ২৯,৭১০১২ মাসের থাকার খরচের ফান্ড
৪৮ ঘণ্টাক্লাস চলাকালে প্রতি দুই সপ্তাহে কাজ
ইউনিভার্সিটি অব সিডনির মেইন কোয়াড্র্যাঙ্গল, অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস
ইউনিভার্সিটি অব সিডনির মেইন কোয়াড্র্যাঙ্গল — অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Jton2612, Wikimedia Commons, CC BY-SA 3.0 (cropped).

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় কত খরচ?

ভিসা আবেদনের চার্জ অনেক বেড়েছে: জুলাই ২০২৪-এর আগে AUD ৭১০, তারপর AUD ১,৬০০, ২০২৫ সালে AUD ২,০০০, আর Study Australia জানাচ্ছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আবেদনে AUD ২,৫০০ থেকে শুরু। মেডিকেল, বায়োমেট্রিক ও ইংরেজি পরীক্ষার খরচ আলাদা।

খাতAUD৳ (আনুমানিক)
ভিসা আবেদনের চার্জ২,৫০০≈২,০০,০০০
থাকার খরচের ফান্ড (১২ মাস)২৯,৭১০≈২৩,৮০,০০০
টিউশন, ১ বছর (সাধারণ সীমা)২৫,০০০–৪৫,০০০≈২০,০০,০০০–৩৬,০০,০০০
OSHC স্বাস্থ্যবিমা, ১ বছর≈৬৫০–৮০০≈৫২,০০০–৬৪,০০০
মেডিকেল, বায়োমেট্রিক, IELTS/PTE—≈৩৫,০০০–৫০,০০০

টাকার অঙ্কগুলো আনুমানিক, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি AUD প্রায় ৳৮০ ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে টিউশন অনেক আলাদা।

জেনুইন স্টুডেন্ট শর্তটা কী?

২০২৪ সালের মার্চ থেকে পুরোনো GTE স্টেটমেন্টের জায়গায় এসেছে জেনুইন স্টুডেন্ট (GS) শর্ত। আবেদনের ভেতরেই কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় — আপনার পরিস্থিতি, কেন এই কোর্স ও প্রতিষ্ঠান, ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগবে, আর পড়াশোনার ইতিহাস। উত্তর হতে হবে নির্দিষ্ট, সৎ আর কাগজে সমর্থিত — বাংলাদেশে বেতনের স্কেল, পড়ার বিরতির ব্যাখ্যা, কোর্সের সাথে ক্যারিয়ারের যোগ।

স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রতিষ্ঠানটিকেও দেখে। কম ঝুঁকির বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনকারীদের প্রসেসিং সাধারণত দ্রুত হয় (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

ধাপে ধাপে কীভাবে আবেদন করবেন?

1

অফার নিন ও ডিপোজিট দিন

অফার গ্রহণ করুন, ডিপোজিট দিন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে OSHC কিনুন।

2

CoE হাতে নিন

আবেদনের জন্য কনফার্মেশন অব এনরোলমেন্ট লাগে।

3

GS উত্তর ও ফান্ড গোছান

নির্দিষ্ট উত্তর লিখুন; ব্যাংক, লোন ও আয়ের প্রমাণ জোগাড় করুন।

4

ImmiAccount-এ জমা

AUD ২,৫০০ দিন, কাগজ আপলোড করুন।

5

বায়োমেট্রিক ও মেডিকেল

বলা হলে ঢাকার VFS আর অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে যান।

6

ভিসা গ্রান্ট

শর্তগুলো পড়ুন, বিশেষ করে কাজের সীমা ও এনরোলমেন্টের নিয়ম।

আর্থিক সামর্থ্য কীভাবে দেখাবেন?

LIN 19/198 অনুযায়ী ফান্ডে প্রথম ১২ মাসের টিউশন (যা দিয়েছেন তা বাদে), যাতায়াত ও থাকার খরচ থাকতে হবে: একক শিক্ষার্থীর জন্য AUD ২৯,৭১০, সঙ্গী ও সন্তান থাকলে বেশি। বিকল্প হিসেবে বাবা-মা বা সঙ্গী বছরে অন্তত AUD ৮৭,৮৫৬ আয় দেখাতে পারেন (পরিবার থাকলে বেশি)।

  • সঞ্চয় সত্যিই ব্যবহারযোগ্য হতে হবে — আপনার বা স্পনসরের নামে, স্বাভাবিক ইতিহাসসহ।
  • বাংলাদেশি ব্যাংকের এডুকেশন লোন স্যাংশন লেটারসহ গণ্য হয়।
  • ফিক্সড ডিপোজিটে ব্যাংকের সার্টিফিকেট লাগে; সাম্প্রতিক বড় জমার ব্যাখ্যা দিন।
  • আবেদনের সময় আপলোড না করলেও স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রমাণ চাইতে পারে; তাই তৈরি রাখুন।

বাংলাদেশি আবেদনকারী কোন কাগজগুলো তৈরি রাখবেন?

  • পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র
  • CoE ও অফার লেটার
  • সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
  • IELTS, PTE বা TOEFL-এর ফল
  • প্রমাণসহ জেনুইন স্টুডেন্ট উত্তর
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, লোন স্যাংশন বা স্পনসরের আয়ের প্রমাণ
  • OSHC পলিসি ও জন্মনিবন্ধন

পড়ার সময় কাজ আর পড়ার পরে থাকা যায় কি?

স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা কোর্স চলাকালে প্রতি দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর নির্ধারিত ছুটিতে সীমাহীন কাজ করতে পারেন। স্নাতকের পর যোগ্যরা টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসায় (সাবক্লাস ৪৮৫) আবেদন করতে পারেন। প্রথম কয়েক মাস পার্ট-টাইম আয়ের ওপর ভরসা না করে বাজেট সাজান।

মনে রাখুন: ২০২৪ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ফি ও নিয়ম কয়েকবার বদলেছে। যেদিন আবেদন করবেন, সেদিন স্বরাষ্ট্র বিভাগের সাবক্লাস ৫০০ পাতাটা পড়ুন, আর যে ফি দিলেন তার স্ক্রিনশট রাখুন।

টিউশন ফি ও থাকার খরচের টাকা কীভাবে পাঠাবেন?

সংক্ষেপে: অফার লেটার দেখিয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠান, আর পৌঁছানোর জন্য অল্প কিছু এনডোর্স করা নগদ ডলার সাথে রাখুন।

  • ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল: বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা মেনে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর টিউশন ও থাকার খরচ পাঠায়। আগেভাগে স্টুডেন্ট ফাইল খুলুন, কারণ ব্যাংক অফার লেটার, ভিসা বা ভর্তির কাগজ আর পাসপোর্ট চায়।
  • সব রসিদ রাখুন: রেমিট্যান্স অ্যাডভাইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসিদ আর ব্যাংক সার্টিফিকেট একসাথে রাখুন। ভিসা অফিসার এবং পরে ভিসা নবায়ন — দুই জায়গাতেই পরিষ্কার লেনদেনের ইতিহাস দেখা হয়।
  • পৌঁছানোর সময়ের নগদ: প্রথম কয়েক দিনের জন্য অল্প এনডোর্স করা বৈদেশিক মুদ্রা যথেষ্ট; স্থানীয় অ্যাকাউন্ট খোলা পর্যন্ত বাকিটা ডুয়াল-কারেন্সি কার্ডে চলে।
  • স্পনসরের কাগজ: বাবা-মা খরচ দিলে তাঁদের আয়ের প্রমাণ, ট্যাক্স রিটার্ন আর স্পনসরশিপ লেটার তৈরি রাখুন — নামের বানান যেন পাসপোর্টের সাথে মেলে।
  • হঠাৎ বড় জমা নয়: ব্যাংক স্টেটমেন্টে ব্যাখ্যাহীন বড় অঙ্কের জমা প্রশ্ন তোলার একটা সাধারণ কারণ; সঞ্চয়ের স্বাভাবিক ইতিহাস থাকা ভালো।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

২০২৭ সালে অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসার ফি কত?

Study Australia জানাচ্ছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জমা দেওয়া আবেদনে AUD ২,৫০০ থেকে শুরু, ছাড় না থাকলে।

ব্যাংকে কত টাকা দেখাতে হয়?

১২ মাসের টিউশন, যাতায়াত আর AUD ২৯,৭১০ থাকার খরচ, অথবা বাবা-মায়ের বছরে অন্তত AUD ৮৭,৮৫৬ আয়।

ছাত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় কি কাজ করা যায়?

হ্যাঁ, পড়ার সময় প্রতি দুই সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত, নির্ধারিত ছুটিতে সীমাহীন।

GS শর্ত কী?

আবেদনের ভেতরের কিছু প্রশ্ন, যা দেখে আপনি সত্যিই পড়তে চান কিনা; পুরোনো GTE-র জায়গায় এসেছে।

প্রসেসিংয়ে কত সময় লাগে?

কেসভেদে আলাদা; স্বরাষ্ট্র বিভাগ ওয়েবসাইটে বর্তমান প্রসেসিং সময় প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন দেশ ভালো · বাংলাদেশে এডুকেশন লোন · নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা

২০২৭ সালে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য? আগে টাকার পরিকল্পনা করুন।

AUD ২,৫০০ দেওয়ার আগেই স্বরাষ্ট্র বিভাগের সর্বশেষ নিয়ম মেনে আপনার ফান্ড পরিকল্পনা, GS উত্তর আর কাগজের ফাইল সাজিয়ে দেব।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন