Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

সাইপ্রাসে Pink Slip, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সিম: ২০২৭ গাইড

সাইপ্রাসে পৌঁছে Pink Slip, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সিম — বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৭ সালের গাইড: সাত দিনের নিয়ম, ARC, মেডিকেল টেস্ট আর এক শব্দের নামের পাসপোর্টের ফাঁদ।

প্রকাশিত 13 Aug, 2026 সাইপ্রাস

Read in English →
সাইপ্রাসে Pink Slip, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সিম: ২০২৭ গাইড

লারনাকা বিমানবন্দরে ফ্লাইট নামল মাঝরাত পেরিয়ে। পরদিন দুপুরে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন একটা লাইনে — হাতে পাসপোর্ট, অফার লেটার, আর এমন একটা ফোন যাতে কোনো নম্বরই চালু নেই। প্রথম অফিস চাইছে এমন একটা কাগজ, যেটা দেয় দ্বিতীয় অফিস; আর সেই দ্বিতীয় অফিস চাইছে সাইপ্রাসের একটা ঠিকানা, যেটা এখনো আপনার নেই। এই চক্করেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আটকে যান। এর সঙ্গে আপনার ভিসা ফাইল কত শক্ত ছিল, তার কোনো সম্পর্ক নেই।

৭দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন*
১ বছরপারমিটের মেয়াদ, প্রতিবছর নবায়ন
€১০,০০০এই নগদ ইউরোপে ঢুকলে ঘোষণা বাধ্যতামূলক
৬৩(I)/২০২৪সিম রেজিস্ট্রেশনের আইন

Pink Slip আসলে কী, আর সেটা কি শিক্ষার্থীর রেসিডেন্স পারমিট?

দুটো এক জিনিস নয়, আর এই গুলিয়ে ফেলাটাই শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করে। নব্বই দিনের বেশি সাইপ্রাসে থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের যে সাময়িক রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হয়, তারই চলতি নাম Pink Slip। অনলাইনে এই নামে যা লেখা থাকে, তার প্রায় সবটাই ভিজিটর শ্রেণির কথা — অবসরপ্রাপ্ত বা নিজের খরচে থাকা মানুষ, যাঁদের বিদেশ থেকে বড় অঙ্কের বার্ষিক আয় আর ব্যাংকে মোটা টাকা দেখাতে হয়। শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি আবেদন করবেন স্টুডেন্ট শ্রেণিতে, Civil Registry and Migration Department (CRMD)-এর মাধ্যমে, আর সাধারণত আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস আপনার সঙ্গে বসে ফাইলটা গোছায়।

শিক্ষার্থীরা হাতে পান Aliens' Register-এর সঙ্গে যুক্ত একটি রেসিডেন্স পারমিট, আর সাধারণত তার সঙ্গে Alien Registration Certificate (ARC) — যাতে থাকে আপনার নিজস্ব ARC নম্বর। এরপর প্রতিটি কাউন্টার এই নম্বরটাই চাইবে: ব্যাংক, মোবাইলের দোকান, ক্লিনিক। পার্থক্যটা দেশ ছাড়ার আগেই জেনে যাওয়া ভালো, কারণ "Pink Slip Cyprus" লিখে খুঁজতে গিয়ে অনেকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য লেখা পাতায় পৌঁছান, সেখানকার আয়ের অঙ্ক দেখে ঘাবড়ে যান, আর ভাবতে শুরু করেন তাঁদেরও বছরে ২৪ হাজার ইউরোর বিদেশি আয় দেখাতে হবে। দরকার নেই।

আরেকটা কথা মনে রাখুন। Republic of Cyprus ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, তবে ২০২৬ সালে আমাদের যাচাই অনুযায়ী এখনো Schengen-এর বাইরে। তাই সাইপ্রাসের রেসিডেন্স পারমিট কোনো Schengen রেসিডেন্স কার্ড নয়, আর এটা দিয়ে আপনি নিজে থেকেই Schengen দেশগুলোয় ঘুরে বেড়াতে পারবেন না।

পৌঁছানোর কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে?

খুব দ্রুত। Migration Department যা বলে আর সাইপ্রাসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যা বারবার মনে করিয়ে দেয়, তা হলো — তৃতীয় দেশের নাগরিককে পৌঁছানোর সাত দিনের মধ্যে Aliens' Register-এ নাম তুলে সাময়িক রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে "after arrival" কাগজপত্র জমা দিতে বলে। সাত দিনকেই নিজের সময়সীমা ধরে পুরো সপ্তাহটা সাজিয়ে নিন।

কোথায় যাবেন, সেটা নির্ভর করে আপনি কোন জেলায় থাকছেন তার ওপর। CRMD-র নিজস্ব নির্দেশনায় বলা আছে, আবেদন করা যায় তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম eas.crmd.moi.gov.cy-তে, অথবা সরাসরি — Nicosia জেলায় থাকলে CRMD-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, আর বাকি সব জেলার জন্য পুলিশের Aliens and Immigration Service-এর জেলা ইউনিটে। অর্থাৎ Limassol, Larnaca বা Paphos-এ থাকা শিক্ষার্থীকে Nicosia পর্যন্ত যেতে হয় না। অনলাইনে আবেদন করলেও একবার সশরীরে যেতেই হবে — ছবি, আঙুলের ছাপ আর স্বাক্ষর নেওয়া হয় সেখানেই।

রেসিডেন্স পারমিটের ফাইলে আসলে কী কী লাগে?

ফাইলের মূল কথা একটাই — আপনি সত্যিকারের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী, ফি দেওয়া আছে, ইনস্যুরেন্স আছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে আর থাকার জায়গা ঠিক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে তালিকা একটু আলাদা হয়, কারণ প্রতিটি ইন্টারন্যাশনাল অফিস জানে তাদের জেলা অফিস কী চায়। তাই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাটাই চূড়ান্ত ধরুন, আর নিচের ছকটা ব্যবহার করুন পরিকল্পনার কাজে।

কাগজকী প্রমাণ করেউৎস
পাসপোর্ট ও এন্ট্রি স্ট্যাম্পবৈধভাবে ঢোকা, পৌঁছানোর তারিখপ্রচলিত
মূল এন্ট্রি পারমিটস্টুডেন্ট পারমিটে এসেছেনপ্রচলিত
টিউশন ফির রসিদভর্তি সত্যিকারের, টাকা দেওয়াপ্রচলিত
১ বছরের ইনস্যুরেন্সভর্তি, বহির্বিভাগ ও প্রত্যাবাসন কভারবিশ্ববিদ্যালয় সূত্র
মেডিকেল টেস্টসাইপ্রাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষাবিশ্ববিদ্যালয় সূত্র
ব্যাংকের নিশ্চয়তাথাকা-খাওয়ার খরচের সংস্থানবিশ্ববিদ্যালয় সূত্র
ঠিকানার প্রমাণআপনি আসলে কোথায় থাকেনপ্রচলিত

শেষ কাগজটাকেই শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে হালকাভাবে নেন। নিজের নামে, নিজের ঠিকানায় একটা ভাড়ার চুক্তি — এটাই সেই কব্জা, যার ওপর ব্যাংক আর পারমিট ফাইল দুটোই ঘোরে। অন্য কারও নামে নেওয়া ফ্ল্যাটে থাকলে লিখিত ব্যবস্থাটা তৃতীয় সপ্তাহে নয়, প্রথম সপ্তাহেই ঠিক করে ফেলুন।

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর প্রথম পাঁচ ধাপ: পৌঁছানো, Aliens Register-এ নাম তোলা, মেডিকেল ও ইনস্যুরেন্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নিজে গিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন
গতির চেয়ে ক্রমটাই বেশি জরুরি — প্রতিটি ধাপ আপনাকে পরের ধাপের কাগজটা এনে দেয়।

পৌঁছে কোন কোন মেডিকেল টেস্ট করাতে হয়?

সাইপ্রাসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রায় একরকম: হেপাটাইটিস বি (HBV), হেপাটাইটিস সি (HCV), সিফিলিসের পরীক্ষা (VDRL), এইচআইভি পরীক্ষা এবং যক্ষ্মার জন্য বুকের এক্স-রে — রিপোর্টে ডাক্তারের সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আসল কথাটা হলো, এই পরীক্ষাগুলো সাধারণত সাইপ্রাসে পৌঁছে আবার করাতে হয়, ঢাকায় করানো থাকলেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস লিখিতভাবে না বললে বাংলাদেশের রিপোর্টকে বিকল্প ধরে নেবেন না।

এর জন্য কয়েক দিন হাতে রাখুন। রিপোর্ট আসতে সময় লাগে, ইনস্যুরেন্স সার্টিফিকেটটা সাধারণত টেস্টের আগে বা সঙ্গেই কিনতে হয়, আর দুটো হাতে না এলে পারমিটের ফাইল জমাই দেওয়া যায় না। এ কারণেই যে শিক্ষার্থী প্রথম সপ্তাহটা বাসা খোঁজায় কাটিয়ে দেন, তিনিই সাত দিনের সীমা পেরিয়ে যান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে সাইপ্রাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন?

ধরে নিন ব্যাংক আপনার ধারণার চেয়ে কড়া, আর কাজটা প্রথম সপ্তাহেই শুরু করুন। Bank of Cyprus-এর নিজস্ব নতুন গ্রাহক আবেদনপত্রে সংযুক্ত করতে বলা হয় পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের কপি, বাসস্থানের ঠিকানার প্রমাণ, এবং Alien Registration Certificate-এর কপি। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর রেসিডেন্স পারমিট একসঙ্গে বাঁধা: পারমিট আপনাকে ARC দেয়, আর ARC অ্যাকাউন্টের দরজা খোলে। ব্যাংক স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে, মূল পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র না থাকলে তাদের মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না।

এবার সেই খুঁটিনাটি, যেটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা কোথাও প্রায় পাওয়াই যায় না। ওই একই আবেদনপত্রে একটা আপলোড ঘর আছে, যার নাম "Clean Criminal Record Document if single name on passport"। বাংলাদেশের বহু পাসপোর্টে নাম থাকে এক শব্দের, আর সেই শিক্ষার্থীর কাছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাওয়া হবে — যেটা দেশ থেকে আনতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। পাসপোর্টে যদি একটাই নাম থাকে, তাহলে দেশ ছাড়ার আগেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করিয়ে সত্যায়িত কপি সঙ্গে নিন।

শাখায় একবার যেতেও হবে। ওয়েব বা অ্যাপে করা আবেদন সাধারণত সশরীরে গিয়েই শেষ করতে হয়, যাতে ব্যাংক মূল কাগজ দেখে কার্ড চালু করতে পারে — মানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, লাইন, আর ডাকে ডেবিট কার্ড আসার অপেক্ষা। চালু হয়নি এমন অ্যাকাউন্ট থেকে সাইপ্রাসে কেউ বাড়িভাড়া বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিস্তি নেবে না।

সাইপ্রাসে সিমের নিয়ম কী, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হয়?

সাইপ্রাসে বেনামি প্রিপেইড সিমের দিন শেষ। Law on the Identification of Holders and/or Users of SIM (or eSIM) Cards for Prepaid Mobile Telephony Services, Law No. 63(I) of 2024 অনুযায়ী প্রতিটি প্রিপেইড নম্বর একজন শনাক্ত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত থাকতে হবে, আর অপারেটররা সেটা কঠোরভাবে মানে: সময়সীমা পেরোনোর পর অনিবন্ধিত নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমা সংসদ এক মাস বাড়িয়ে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত করেছিল।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য কাজের নিয়মগুলো এই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের শনাক্ত করা হয় পাসপোর্ট দিয়ে। পাসপোর্ট না থাকলে ইমিগ্রেশন পারমিট, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদনের প্রমাণ কিংবা স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট দিয়ে — তবে সেই শনাক্তকরণ দোকানে গিয়েই করতে হয়, অনলাইনে নয়। অপারেটররা দূর থেকে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়, যেখানে পাসপোর্টের ছবি তুলে তারপর নিজের একটা লাইভ সেলফি দিতে হয় — কিন্তু সেটা তখনই চলে যখন লাইনের মালিক আর ব্যবহারকারী একই ব্যক্তি। অন্য কারও নামে লাইন হলে দুজনকেই বৈধ কাগজ নিয়ে দোকানে যেতে হবে। রেজিস্ট্রেশনে কোনো টাকা লাগে না, আর অন্তত একটি অপারেটর বলছে নিজের নামে কতগুলো প্রিপেইড নম্বর রাখা যাবে তার কোনো সীমা নেই।

প্রথম কয়েক মাসে খরচ কেমন, আর টাকা কীভাবে যাবে?

টিউশনের তুলনায় পারমিটের ফি সামান্য, কিন্তু সেটা আসে ইনস্যুরেন্স, মেডিকেল টেস্ট, বাড়িভাড়ার অগ্রিম আর জেট ল্যাগের ক্লান্তির সঙ্গে একসাথে। নিচের অঙ্কগুলো নানা জায়গায় একইরকম পাওয়া গেছে, তবে এই লেখার সময় Migration Department-এর নিজস্ব ফি-র পাতাটি আমরা খুলতে পারিনি। তাই প্রতিটি সংখ্যাকে ইঙ্গিতমূলক ধরুন, কাউন্টারে গিয়ে মিলিয়ে নিন।

খাতঅঙ্কআনুমানিক টাকাউৎস
পারমিট আবেদন€৭০৳৯,৯০০ইঙ্গিতমূলক
পারমিট ও ARC একসাথে€১৪০৳১৯,৮০০ইঙ্গিতমূলক
নবায়ন€৫৫৳৭,৮০০ইঙ্গিতমূলক
সিম রেজিস্ট্রেশনফ্রি—অপারেটর সূত্র
যে নগদ ঘোষণা করতেই হবে€১০,০০০৳১৪.২ লাখইইউ নিয়ম

হিসাব €১ = ৳১৪১.৬৯ ধরে (মুক্ত বিনিময় হার ফিড, ১৪ আগস্ট ২০২৬)। হার প্রতিদিন বদলায়।

টাকা বহনের প্রসঙ্গে: ইইউর নিয়ম অনুযায়ী কেউ ১০ হাজার ইউরো বা তার বেশি নগদ — ব্যাংক নোট, নির্দিষ্ট কিছু বাহক দলিল ও সোনাসহ — নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢুকলে বা বেরোলে কাস্টমসে লিখিতভাবে ঘোষণা করতে হয়। ঘোষণা না করলে কিংবা অসম্পূর্ণ ঘোষণা দিলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। সাইপ্রাসের কাস্টমস আরও এক ধাপ এগিয়ে বলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশ থেকে এলেও একই সীমা থেকে ঘোষণা করতে হবে। পরিবারের জমানো টাকা নগদে নিয়ে যাওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ঠিক এই নিয়মের আওতায়ই পড়েন।

বাংলাদেশের দিকটাও সমান জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের Guidelines for Foreign Exchange Transactions অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খরচের হিসাব দেখে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ে, একবারে সর্বোচ্চ এক শিক্ষাবর্ষের জন্য; টিউশন ফি শিক্ষার্থীর হাতে না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ট্রান্সফার বা ড্রাফটে পাঠানো হয়। পরের প্রতিটি ছাড়ের জন্য লাগে নতুন খরচের হিসাব আর অগ্রগতির প্রতিবেদন, আর পুরো কোর্সের লেনদেন চলতে হয় একটিমাত্র AD শাখার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের কাগজে ইনস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক দেখানো থাকলে সেই ফিও পাঠানোর সুযোগ নির্দেশিকায় রাখা আছে।

সবচেয়ে বেশি যেখানে ভুল হয় — Eduvisa-য় আমরা যা দেখি

তিনটি ঘটনা বারবার ঘটে, আর একটাও দুর্বল শিক্ষার্থীর গল্প নয়।

প্রথমটি ঠিকানার ফাঁক। শিক্ষার্থী প্রথম দুই সপ্তাহ আত্মীয় বা বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন, নিজের নামে কোনো চুক্তি নেই, ফলে ব্যাংক আর পারমিট ফাইল দুটোর জন্যই ঠিকানার প্রমাণ দেখাতে পারেন না — আর সাত দিনের ঘড়ি ততক্ষণে চলতেই থাকে।

দ্বিতীয়টি ইনস্যুরেন্সের অমিল। বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে কেনা সস্তা পলিসি, কাগজে দেখতে ভালো, কিন্তু ভর্তি-বহির্বিভাগ-প্রত্যাবাসনের যে ভাষা সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ খোঁজে সেটা তাতে নেই — আর এটা ধরা পড়ে ফাইল জমা দেওয়ার দিন।

তৃতীয়টি এক শব্দের নামের পাসপোর্ট। বিষয়টা সামনে আসে Nicosia-র কোনো ব্যাংক কাউন্টারে, অথচ দেশে থাকতে এক বিকেলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করিয়ে রাখলেই সেটা মিটে যেত। এই ধরনের জিনিসই আমরা শিক্ষার্থী রওনা দেওয়ার আগে দেখে রাখি — নিয়মটা গোপন বলে নয়, বরং আটকে না যাওয়া পর্যন্ত কারও এটা খুঁজে দেখার কথা মনেই আসে না বলে।

সাইপ্রাসে প্রথম সপ্তাহের তালিকা

  • নামার দিনই পাসপোর্টের এন্ট্রি স্ট্যাম্পের পাতার ছবি তুলে রাখুন।
  • দ্বিতীয় দিনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিসে যোগাযোগ করুন।
  • মেডিকেল টেস্টের সময় নিন, নিয়ম মেনে এক বছরের ইনস্যুরেন্স কিনুন।
  • নিজের নামে থাকার লিখিত কাগজ বা ভাড়ার চুক্তি করুন।
  • সাত দিনের মধ্যে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন জমা দিন।
  • ARC বা রসিদ হাতে আসতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  • নিজের পাসপোর্ট নিয়ে নিজে গিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন করুন।

কাজ করার আগে যাচাই করুন। এই লেখার সময় Migration Department-এর শিক্ষার্থীবিষয়ক পাতা ও ফি-র তালিকা খোলা যায়নি। তাই সাত দিনের সময়সীমা, ফি-র অঙ্ক আর মেডিকেল টেস্টের তালিকা এসেছে CRMD-র নির্দেশনা, সাইপ্রাসের বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইড আর অপারেটরের পাতা থেকে — কোনো একক সরকারি শিক্ষার্থী-পাতা থেকে নয়। প্রতিটি তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস এবং CRMD বা আপনার জেলা ইমিগ্রেশন ইউনিটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

দ্বীপের দুই পাশে নিয়ম এক নয়। ওপরের সবকিছু Republic of Cyprus-এর জন্য। উত্তরের অংশ Republic-এর প্রশাসনের অধীনে নয়, সেখানকার কাগজ ইইউর কাগজ নয়, আর এই লেখার কিছুই সেখানে খাটে না। অফার নেওয়ার আগে দেখে নিন আপনার প্রতিষ্ঠান দ্বীপের কোন পাশে।

আরও পড়ুন: সাইপ্রাস স্টুডেন্ট ভিসার পূর্ণাঙ্গ গাইড এবং সাইপ্রাসে থাকা-খাওয়ার মাসিক খরচ। পড়ার পাশাপাশি কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে আগে দেখে নিন সাইপ্রাসে পার্ট-টাইম কাজের নিয়ম।

ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: Cyprus Migration Department এবং ইইউর নগদ টাকা বহনের নিয়ম।

বিমান নামা শেষ নয় — কাগজের কাজ সেখান থেকেই শুরু

বেশিরভাগ কনসালটেন্সি বিমানবন্দরেই হাত নেড়ে বিদায় নেয়। আমরা নিই না। সাইপ্রাসে পৌঁছানোর পরের সপ্তাহটা — পারমিটের ফাইল, ইনস্যুরেন্সের ভাষা, ব্যাংকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সিমের কাউন্টার — Eduvisa বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পাশে থেকে পার করিয়ে দেয়। ভিসা পাওয়া আর গুছিয়ে বসা এক জিনিস নয়। টিকিট কাটার আগে একবার আমাদের সঙ্গে বসে যান।

ফ্রি পরামর্শের সময় নিন →

সম্পর্কিত পোস্ট

বাংলাদেশ থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: মাল্টা, ইতালি, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাস

বাংলাদেশ থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: মাল্টা, ইতালি, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাস

মাল্টা, ইতালি, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাসের ট্যুরিস্ট ভিসা: কোন ভিসা লাগে, কী কাগজ লাগে, ব্যাংক স্টেটমেন্টের ঝুঁকি, ভ্রমণ ইতিহাস ও বাতিলের সাধারণ কারণ।

আরও পড়ুন
বিমান থেকে নামার পরেও আমরা আছি: ভিসার পরেও Eduvisa যেভাবে পাশে থাকে

বিমান থেকে নামার পরেও আমরা আছি: ভিসার পরেও Eduvisa যেভাবে পাশে থাকে

বেশিরভাগ consultancy ভিসা হলেই কাজ শেষ মনে করে। Eduvisa-র কাজ শুরু হয় আপনি দেশে পৌঁছানোর পর থেকে — সেটল না হওয়া পর্যন্ত।

আরও পড়ুন
SOP লেখার নিয়ম ২০২৭: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গাইড

SOP লেখার নিয়ম ২০২৭: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গাইড

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়ার SOP ২০২৭: UCAS-এর নতুন তিন প্রশ্ন, UK ভিসা কর্মকর্তা আসলে কী যাচাই করেন, আর টেমপ্লেট SOP-র যে ভুলগুলো চুপচাপ সুযোগ কেড়ে নেয়।

আরও পড়ুন

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন