Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশি পাসপোর্টে সিঙ্গাপুর ভিসা ২০২৭: ফি, কাগজপত্র ও LOI

বাংলাদেশি পাসপোর্টে সিঙ্গাপুর ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: অফিসিয়াল ফি S$৩০, কী কী কাগজ লাগে, LOI (ফর্ম V39A), ঢাকার অনুমোদিত এজেন্ট আর ভ্রমণের খরচ।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 singapore

Read in English →
বাংলাদেশি পাসপোর্টে সিঙ্গাপুর ভিসা ২০২৭: ফি, কাগজপত্র ও LOI

ঢাকা থেকে মাত্র চার ঘণ্টার পথ সিঙ্গাপুর — ঝকঝকে, নিরাপদ, আর প্রথমবার একা ঘুরতে যাওয়ার মতো সহজ শহর। তবু "সিঙ্গাপুর ভিসা করতে কি কি লাগে" বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নগুলোর একটি। কারণ প্রক্রিয়াটা একটু আলাদা: হাইকমিশনে সরাসরি গিয়ে আবেদন করা যায় না, আর আপনার হয়ে কাউকে পরিচয় দিতে হয়। ২০২৭ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টে সিঙ্গাপুর ভিসা ঠিক কীভাবে হয়, দেখে নিন।

S$৩০ICA-র অফিসিয়াল ভিসা ফি
ফর্ম V39Aলেটার অব ইন্ট্রোডাকশন লাগে
~৪ ঘণ্টাঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট
সিঙ্গাপুরের আর্টসায়েন্স মিউজিয়াম ও মেরিনা বে স্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ভিসায় বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রিয় জায়গা
সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে — শহরের সেরা ফ্রি সন্ধ্যার আয়োজন উপসাগরের আলোর শো। ছবি: Basile Morin, Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (cropped).

২০২৭ সালে বাংলাদেশিদের কি সিঙ্গাপুরের ভিসা লাগে?

হ্যাঁ। সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি ICA জানাচ্ছে, বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা লাগে; শুধু কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্ট ছাড়। অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেই, আর বিমানবন্দর থেকে বের হতে চাইলে ফ্রি ট্রানজিটও নেই। ভিসা ইলেকট্রনিক — ঢাকায় চেক-ইন আর চাঙ্গিতে দেখানোর জন্য ই-ভিসা প্রিন্ট করে নিতে হয়।

বিষয়অফিসিয়াল নিয়ম
কাদের ভিসা লাগেবাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্ট
কোথায় আবেদনঢাকার অনুমোদিত ভিসা এজেন্ট, বা লোকাল কন্টাক্টের মাধ্যমে অনলাইনে
ফিS$৩০, ফেরতযোগ্য নয়
মূল ফর্মফর্ম 14A + ফর্ম V39A (LOI)
পাসপোর্টের মেয়াদপ্রবেশের দিন থেকে অন্তত ৬ মাস
ভিসার ধরনই-ভিসা, প্রিন্ট করা

ICA প্রায় তিন কর্মদিবসের কথা বলে, আর হাইকমিশন অন্তত পাঁচ কর্মদিবস হাতে রাখতে বলে (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)। ডিসেম্বর আর ঈদের সময় এজেন্টদের ভিড় বেশি, তাই দুই-তিন সপ্তাহ আগে আবেদন করুন।

LOI কী, আর কে দিতে পারেন?

লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন (ফর্ম V39A) নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি। এটা দিতে হবে একজন লোকাল কন্টাক্টকে: সিঙ্গাপুরের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা, বয়স অন্তত ২১, Singpass অ্যাকাউন্ট আছে। ব্যবসায়িক সফরে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত কোম্পানি কন্টাক্ট হয়। লোকাল কন্টাক্ট না পেলে নিজের দেশের দূতাবাসের দেওয়া LOI-ও ICA গ্রহণ করে।

বাস্তবে সিঙ্গাপুরে বন্ধু বা আত্মীয় নেই এমন পর্যটকেরা ঢাকার অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করেন, আর এজেন্টই জমার পথ ঠিক করে দেয় (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)। "গ্যারান্টি ভিসা"-র জন্য কখনো টাকা দেবেন না — সিদ্ধান্ত শুধু ICA-র।

ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর ভিসার আবেদন ধাপে ধাপে কীভাবে করবেন?

1

অনুমোদিত এজেন্ট বাছুন

ঢাকার সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের প্রকাশিত তালিকা থেকে নিন। তালিকার বাইরের কাউকে নয়।

2

LOI-র ব্যবস্থা করুন

সিঙ্গাপুরের পরিচিতজনকে ফর্ম V39A পূরণ করতে বলুন; কেউ না থাকলে এজেন্টের পরামর্শ নিন।

3

ফাইল তৈরি করুন

ফর্ম 14A, ছবি, পাসপোর্টের কপি, আর এজেন্ট যা চায়: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চাকরি বা ছাত্রত্বের চিঠি, হোটেল ও ফ্লাইট বুকিং।

4

জমা ও ফি

এজেন্ট অনলাইনে জমা দেয় এবং সার্ভিস চার্জসহ S$৩০ টাকায় নেয়। রসিদ রাখুন।

5

ই-ভিসা হাতে নিন

প্রিন্ট করুন। যাওয়ার আগে নাম, পাসপোর্ট নম্বর আর মেয়াদের তারিখ মিলিয়ে নিন।

ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর ঘুরতে কত খরচ?

সরাসরি উত্তর: ফ্লাইট ও ভিসাসহ ৪ দিনের সিঙ্গাপুর ভ্রমণে জনপ্রতি মোটামুটি ৳৮৫,০০০–১,৫০,০০০ লাগে। সবচেয়ে বড় খরচ হোটেল; হকার সেন্টারে খেলে খাবারের খরচ কম থাকে।

খাত৳ (আনুমানিক)
ঢাকা–সিঙ্গাপুর রিটার্ন ফ্লাইট৪০,০০০–৭৫,০০০
ভিসা ফি + এজেন্টের চার্জ৪,০০০–৬,০০০
হোটেল, ৩ রাত (বাজেট/মাঝারি)২২,০০০–৪৫,০০০
খাবার (হকার সেন্টার), ৪ দিন৬,০০০–১০,০০০
MRT/বাস, দর্শনীয় স্থান৮,০০০–১৬,০০০
মোট≈ ৮০,০০০–১,৫২,০০০

শুধু আনুমানিক হিসাব, জনপ্রতি, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি US$ প্রায় ৳১২২ ও প্রতি S$ প্রায় ৳৯৪ ধরে। কোটেশন নয়।

সিঙ্গাপুর ভিসার জন্য কোন কাগজগুলো গুছিয়ে রাখবেন?

  • অন্তত ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও
  • পূরণ ও সই করা ফর্ম 14A
  • ICA-র মাপমতো সাম্প্রতিক ছবি
  • লোকাল কন্টাক্টের ফর্ম V39A (LOI)
  • সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট (এজেন্টরা চায়)
  • চাকরির সার্টিফিকেট, NOC বা স্টুডেন্ট আইডি
  • রিটার্ন ফ্লাইট বুকিং ও হোটেল রিজার্ভেশন

কম খরচে সিঙ্গাপুরে কী দেখবেন?

সিঙ্গাপুরের অনেক কিছুই ফ্রি। MRT লাইন ধরে দিন সাজালে সময় আর টাকা দুটোই বাঁচে।

  • মেরিনা বে আর গার্ডেনস বাই দ্য বে: বাইরের বাগান আর প্রতি রাতের সুপারট্রি লাইট শো ফ্রি।
  • চায়নাটাউন, লিটল ইন্ডিয়া আর কাম্পং গ্লাম: মন্দির, সুলতান মসজিদ আর শহরের সবচেয়ে সাশ্রয়ী হালাল খাবার।
  • সেন্টোসা: সৈকত ফ্রি; রাইড আর ইউনিভার্সাল স্টুডিওসেই খরচ।
  • হকার সেন্টার: লাউ পা সাত, ম্যাক্সওয়েল ও টেক্কা সেন্টারে S$৫–৮-এ খাবার।
  • মুস্তাফা সেন্টার: লিটল ইন্ডিয়ার ২৪ ঘণ্টার শপিং মল, বাংলাদেশিদের কাছে খুব পরিচিত।
মনে রাখুন: সফরের উদ্দেশ্য আর কাগজ যেন মেলে। LOI-তে আত্মীয়ের কাছে যাওয়ার কথা লেখা থাকলে অথচ ফাইলে হোটেলের ট্যুর প্যাকেজ দেখালে প্রশ্ন উঠতে পারে। গল্পটা সহজ ও একরকম রাখুন।

বাংলাদেশ থেকে টাকা-ডলার কীভাবে নেবেন?

সংক্ষেপে: যাওয়ার আগে পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করুন, পরিষ্কার US$ নোট ও একটি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড সাথে রাখুন, আর যতটুকু দরকার ততটুকুই ভাঙান।

  • ডলার এনডোর্সমেন্ট: ব্যাংক বা লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে পাসপোর্টে এনডোর্স করিয়ে নিন — এটা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বার্ষিক ট্রাভেল কোটার মধ্যে পড়ে। এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট পাসপোর্টের সাথে রাখুন।
  • ইন্টারন্যাশনাল কার্ড: বাংলাদেশি ব্যাংকের ডুয়াল-কারেন্সি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে হোটেল পেমেন্ট ও সিঙ্গাপুর ডলার তোলা সবচেয়ে নিরাপদ। ব্যাংককে আন্তর্জাতিক ব্যবহার চালু করতে বলুন এবং প্রতি লেনদেন ও দৈনিক সীমা জেনে নিন।
  • পরিষ্কার নোট: নতুন, ছেঁড়া-ফাটা নয় এমন US$ নোট (সম্ভব হলে ২০১৩ বা পরের সিরিজ) ভালো রেট পায়; পুরোনো বা দাগওয়ালা নোট প্রায়ই নেওয়া হয় না।
  • বুঝে ভাঙান: এয়ারপোর্টে শুধু যাতায়াতের জন্য অল্প ভাঙান, বাকিটা শহরের মানি চেঞ্জার বা এটিএম থেকে। বিদেশে টাকা (৳) ভাঙানোর চেষ্টা করবেন না — বাংলাদেশের বাইরে প্রায় কোথাও নেয় না।
  • রেকর্ড রাখুন: কার্ড স্লিপ ও এনডোর্সমেন্ট রসিদ পরে যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে আপনার ভ্রমণ ইতিহাস পরিষ্কার দেখায়।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশিদের কি সিঙ্গাপুরের ভিসা লাগে?

হ্যাঁ, সাধারণ পাসপোর্টধারীদের যাওয়ার আগে এন্ট্রি ভিসা লাগে; কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট ছাড়।

বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গাপুর ভিসার ফি কত?

ICA-র অফিসিয়াল ফি S$৩০, ফেরতযোগ্য নয়; অনুমোদিত এজেন্ট নিজের সার্ভিস চার্জসহ টাকায় নেয়।

লোকাল কন্টাক্ট ছাড়া কি আবেদন করা যায়?

লোকাল কন্টাক্ট না থাকলে দূতাবাসের দেওয়া LOI ICA গ্রহণ করে; বেশিরভাগ পর্যটক ঢাকার অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করেন।

সিঙ্গাপুর ভিসা হতে কত দিন লাগে?

ICA প্রায় তিন কর্মদিবস বলে; হাইকমিশন অন্তত পাঁচ দিন রাখতে বলে (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

সিঙ্গাপুরে কি অন-অ্যারাইভাল ভিসা আছে?

না। ঢাকায় বিমানে ওঠার আগেই ই-ভিসা হাতে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা · থাইল্যান্ড বাজেট ভ্রমণ · ভিয়েতনাম ই-ভিসা

কাগজের চাপ ছাড়াই সিঙ্গাপুর যেতে চান?

এজেন্টরা যা চায় তার সাথে আপনার ফর্ম 14A, LOI আর ব্যাংকের কাগজ মিলিয়ে দেখব, আর এমন ৪ দিনের বাজেট বানাব যা সত্যিই মেনে চলা যায়।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন