শ্রীলঙ্কায় যেতে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ETA লাগে, আর বাংলাদেশের দাম ঠিক হয় SAARC কলাম থেকে: eta.gov.lk-এ অনলাইনে আবেদন করলে US$২০, আর এয়ারপোর্টে গিয়ে নিলে US$২৫। দুই ক্ষেত্রেই ডাবল এন্ট্রিসহ ৩০ দিন। ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা হোটেল বুকিং কিছুই আপলোড করতে হয় না — ETA প্রায় কিছুই চায় না। যা চায় তা হলো পাসপোর্টের প্রতিটি অক্ষর মিলে যাওয়া, কারণ একটু গরমিল হলেই দ্বিতীয়বার টাকা দিতে হবে।
২০২৭ সালে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলঙ্কা কি ফ্রি?
না — আর এই ভুলটাই আমরা সবচেয়ে বেশি দেখি। ২৫ মে ২০২৬ থেকে শ্রীলঙ্কার Department of Immigration and Emigration চল্লিশটি দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ETA ফ্রি করেছে। সেই তালিকায় আছে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান আর মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ নেই।
কথাটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ "দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা ফ্রি ভিসা" নিয়ে অনলাইনে যা ঘোরে তার বেশিরভাগই ভারতীয় পাঠকের জন্য লেখা, তারপর এখানে এমনভাবে শেয়ার হয় যেন আমাদের ক্ষেত্রেও খাটে। খাটে না। বাংলাদেশ যা পায় তা হলো SAARC রেট, আর সেটাও কম কথা নয়: বাংলাদেশি পাসপোর্টে ট্যুরিস্ট ETA-র দাম US$২০, বাকি বেশিরভাগ দেশের US$৫০ নয়।
আপনার রুট কোনটা — অনলাইন, নাকি এয়ারপোর্ট?
দুটোই সত্যিই খোলা আছে। সরকার দুটোরই দাম ঠিক করে রেখেছে, দুটোতেই লোক বসিয়ে রেখেছে। টাকার পার্থক্য যত ছোট, বাকি সব দিকের পার্থক্য তত বড়।
eta.gov.lk-এ US$২০। ইমিগ্রেশন দপ্তর নিজেই ওই একটি ঠিকানার কথা বলে এবং সতর্ক করে যে পেমেন্ট যেন অফিসিয়াল সাইটেই হয়।
- কোনো কাগজ, ছবি বা পাসপোর্টের কপি আপলোড লাগে না
- টিকিট বুক করার আগেও নেওয়া যায়
- দেশে বসেই চেক করার মতো একটা রেফারেন্স নম্বর
- অনলাইনে চলে এমন Visa, Mastercard বা Amex দরকার
US$২৫। দপ্তরের Ports Branch তাদের চলতি কাজের তালিকায় লিখে রেখেছে — "ETA ছাড়া যাঁরা শ্রীলঙ্কায় আসেন তাঁদের বন্দরেই ETA দেওয়া"। কাউন্টারটা তাই বাস্তব।
- US$৫ বেশি, সঙ্গে Bandaranaike-এ লাইন
- আগে থেকে কার্ড লাগে না
- সরকারের নিজের পোর্টালই এখন সবাইকে আগে আবেদন করতে বলে
- কিছু গড়বড় হলে আপনি ততক্ষণে বিদেশে
| বিষয় | অনলাইন | পৌঁছে |
|---|---|---|
| ফি | US$ ২০ | US$ ২৫ |
| থাকা | ৩০ দিন | ৩০ দিন |
| এন্ট্রি | ডাবল | ডাবল |
| কার্ড লাগে | হ্যাঁ | না |
| আগে যাচাই | যায় | যায় না |
| বিজনেস ETA | পাওয়া যায় না | পাওয়া যায় |
শেষ সারিটা অনেককে অবাক করে। বিজনেস ETA অনলাইনে একেবারেই নেওয়া যায় না — দপ্তর বলছে, এটি কেবল শ্রীলঙ্কার বিদেশি মিশনে, কলম্বোর হেড অফিসে, অথবা পৌঁছানোর পর দেওয়া হয়। কলম্বোগামী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রায়ই অনলাইন ফর্মে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, কারণ ফর্ম ভুল ভরার সমস্যা নয় — চ্যানেলটাই ভুল।
টাকায় কত পড়ে, আর আর কী খরচ আছে?
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর রেটে (US$১ ≈ ৳১২২.৯৮) US$২০ মানে প্রায় ৳২,৪৬০, আর US$২৫ মানে প্রায় ৳৩,০৭৫। এটি আমাদের হিসাব, শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রকাশ করা কোনো সংখ্যা নয় — তারা সব দাম মার্কিন ডলারেই লেখে।
বাংলাদেশের অনেক ডেবিট কার্ডে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স চালু থাকে না, অথচ ETA পোর্টাল কেবল Visa, Mastercard আর American Express নেয়। এর সরকারি সমাধান হাল ছেড়ে এয়ারপোর্টে US$২৫ দেওয়া নয়। দপ্তরের ফি-তালিকায় "by third party" জমা দেওয়ার দামও সেই US$২০ — ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইন, বন্ধু বা আত্মীয় আপনার হয়ে জমা দিতে পারেন। তাঁর সময়ের জন্য আপনি যা দেন সেটা আলাদা ও বৈধ সার্ভিস চার্জ। সরকারি ফি বদলায় না।
ফি-তালিকা অনুযায়ী যেকোনো দেশের ১২ বছরের কম বয়সী শিশুরা ৩০ দিন পর্যন্ত ফ্রি ট্যুরিস্ট ETA পায়। ৩০ দিনের বেশি হলে তাদের জাতীয়তার জন্য নির্ধারিত সাধারণ এক্সটেনশন ফি লাগবে। দুই ছোট বাচ্চাসহ চারজনের একটি বাংলাদেশি পরিবারের জন্য তাই খরচ US$৮০ নয়, US$৪০ — কেউ মাথাপিছু দাম বলার আগে জেনে রাখা ভালো।
আসলে কী কী দেখাতে হয়?
সত্যি বলতে, খুব সামান্যই। ETA সিস্টেম কোনো আপলোড চায় না: দপ্তরের ভাষায়, "no passport copies, documents or photographs are required."। তবে বন্দরে পৌঁছে তিনটি জিনিস দেখাতে পারতে হবে।
- পৌঁছানোর তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট
- নিশ্চিত করা রিটার্ন টিকিট
- থাকার সময়ের খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট টাকা
- পাসপোর্টের বায়ো পেজের একটা JPG — ETA সিস্টেম চায় না, তবে দপ্তরের ট্যুরিস্ট ভিসা পাতায় এটি তালিকাভুক্ত, তাই সঙ্গে রাখুন
- বাংলাদেশ থেকে গেলে ইয়েলো ফিভার সনদ লাগে না; এটি কেবল তালিকাভুক্ত ৪৬টি আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য

"যথেষ্ট টাকা" মানে কত, কেউ বলতে পারবে না
আমরা খুঁজেছি। ETA পোর্টাল, শর্তাবলি আর ইমিগ্রেশন দপ্তরের প্রতিটি প্রাসঙ্গিক পাতায় শর্তটা লেখা আছে "sufficient funds to meet the expenses during the stay" আর "evidence of sufficient funds" হিসেবে — আর কোনো অঙ্ক, দৈনিক হার বা ব্যাংক ব্যালেন্সের সীমা কোথাও প্রকাশ করা নেই।
তাই কোনো ব্লগে যদি "শ্রীলঙ্কার জন্য দিনে US$X" লেখা দেখেন, সংখ্যাটা বানানো। ইমিগ্রেশন অফিসার আসলে আপনার সফরের সঙ্গে মিলিয়ে একটা বিচার করছেন: কত দিন, কোথায় থাকবেন, খরচ দিচ্ছে কে। সেই বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তবে সেটা একটা আলোচনা — কোনো সংখ্যা নয়।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটা কেমন?
দপ্তরের হোমপেজে "Complete online Arrival / Departure card" লেখা একটা টাইল আছে। পেজের সোর্স দেখলে বোঝা যায় পুরো অংশটাই কমেন্ট করে বন্ধ রাখা এবং সেখানে কোনো লিংক নেই; যে URL-এ যাওয়ার কথা সেটি ৪০৪ দেখায়। অন্যদিকে Ports Branch এখনো তাদের কাজের তালিকায় রেখেছে — "বন্দরে যাত্রীদের পূরণ করার জন্য ইমিগ্রেশন/ইমিগ্রেশন ফর্ম সরবরাহ"। অর্থাৎ এটি কাগজের ফর্ম, উড়োজাহাজে বা কাউন্টারে দেওয়া হয়। "আপনার শ্রীলঙ্কা অ্যারাইভাল কার্ড অনলাইনে আগে ভরে দেব" বলে কেউ টাকা চাইলে তিনি এমন কিছু বেচছেন যার অস্তিত্ব নেই।
কত দিন থাকা যায়, আর মেয়াদ পেরোলে কী হয়?
পৌঁছে ৩০ দিন, ডাবল এন্ট্রিসহ — তবে ডাবল এন্ট্রি শুনতে যতটা উদার, আসলে ততটা নয়। দপ্তর বলছে, দ্বিতীয়বার ঢুকলে "the balance period of the 30 days of the initial entry will be granted."। ঘড়ি নতুন করে শুরু হয় না। আর প্রথম ৩০ দিনের ভেতর ভিসা বাড়ালে ডাবল এন্ট্রি সুবিধাটি "will automatically be cancelled."
এক্সটেনশনে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়, eservices.immigration.gov.lk পোর্টালের মাধ্যমে। বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্য প্রকাশিত ফি হলো ৩১–৯০ দিনে US$৬০, ৯১–১৮০ দিনে US$১৫০, আর ১৮১–২৭০ দিনে US$২০০।
মেয়াদ পেরোলে খরচ বাড়ে, আর জরিমানা গেজেটে ঠিক করা। মেয়াদ শেষের ৭ দিনের মধ্যে চলে গেলে কেবল প্রযোজ্য ভিসা ফি, কোনো জরিমানা নেই। ৭ দিনের বেশি কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যে হলে US$২৫০ জরিমানা, সঙ্গে ভিসা ফি; ১৪ দিনের বেশি হলে US$৫০০ ও ফি।
কেন আবেদন বাতিল হয়, বা যাত্রী ফিরিয়ে দেওয়া হয়?
- পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা বা জন্মতারিখে টাইপো। সবচেয়ে সাধারণ এবং সবচেয়ে সহজে এড়ানো যায় — এয়ারপোর্টে আবার টাকা দিতে হয়।
- আবেদনের পাসপোর্ট ছাড়া অন্য পাসপোর্টে যাত্রা, নবায়ন করা পাসপোর্ট হলেও।
- মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা নিয়ে শর্তে লেখা আছে "may result in the permanent refusal of an ETA or denial of entry."
- ট্যুরিস্ট ETA যা কভার করে না তা করা — ব্যবসায়িক মিটিং, কনফারেন্স, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ, বেতনসহ বা বিনা বেতনে কাজ।
- বারবার ঢুকে-বেরিয়ে শ্রীলঙ্কায় থেকে যাওয়া। দপ্তর স্পষ্ট করে লিখেছে, ট্যুরিস্ট ETA-তে এটি চলে না।
- বাতিল মানেই শেষ ভাবা। ব্যাপারটা তেমন নয়: অনুমোদিত না হলে আবেদন "referred to the nearest Sri Lanka Overseas Mission" হয়, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঢাকার হাইকমিশন।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আছে High Commission of Sri Lanka, House No. 10, Road No. 62, Gulshan 02, Dhaka 1212, খোলা রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা, ফোন +88 2222 963 53, ইমেইল slhc.dhaka@mfa.gov.lk। ওই তালিকায় ছাপা ওয়েবসাইট slhcdhaka.org ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেখার সময় সাসপেন্ডেড অ্যাকাউন্টের পাতা দেখাচ্ছিল — এ কারণেই মানুষ গুগলে খুঁজে কিছু না পেয়ে ভাবেন মিশনই নেই। আছে। ইমেইল ব্যবহার করুন। মিশনও ওয়েবসাইটের মতোই US$২০ নেয়, তাই সাধারণ বেড়ানোর জন্য নয় — অনলাইন সিস্টেম আপনাকে সেখানে পাঠালে তবেই এটি সঠিক পথ।
শ্রীলঙ্কা অনেক পরিবারের প্রথম বিদেশ সফর — ছোট একটা ছুটি, কিংবা সন্তান দূরে পড়তে যাওয়ার আগে বাবা-মায়ের ঘুরে আসা। এই পাসপোর্টগুলোতেই ভ্রমণের ইতিহাস সবচেয়ে কম, আর এখানেই একটা ভুল ডিজিট বা ছয় মাসের নিয়ম সস্তা সফরকে দামি করে তোলে। একটা পাসপোর্ট আর বুকিং ভালো করে পড়তে আমাদের দশ মিনিট লাগে। Bandaranaike-এ ফিরিয়ে দেওয়া হলে সেটা ঠিক করতে অনেক বেশি সময় লাগে।
যা আমরা যাচাই করতে পারিনি, সরাসরি বলছি। ইস্যু হওয়া ETA কত দিন বৈধ, তা নিয়ে শ্রীলঙ্কার দুটি সরকারি পাতা পরস্পরবিরোধী: আবেদনের পাতায় লেখা ETA-ধারী "within three months from the date of issue" ঢুকতে পারবেন, আর একই ডোমেইনের FAQ বলছে "ETA is valid for six months."। আমরা কোনোটিকেই নিষ্পত্তি হিসেবে লিখছি না — যাত্রার কাছাকাছি সময়ে আবেদন করুন এবং তিন মাসকেই নিরাপদ সীমা ধরুন, আর 0094 71 99 67 888 নম্বরে ETA কল সেন্টারে মিলিয়ে নিন। "যথেষ্ট টাকা"-র কোনো অঙ্ক আমাদের পড়া কোনো শ্রীলঙ্কান সরকারি সূত্রে প্রকাশ করা নেই। দপ্তর লিখেছে "ETA is not a pre-condition to board a flight/vessel to Sri Lanka" — এটি সরকারের অবস্থান, এয়ারলাইনের নয়, আর এয়ারলাইনগুলো ETA ছাড়া নিয়মিতই বোর্ডিং আটকায়; তাই এর ওপর ভরসা করবেন না। শ্রীলঙ্কা কাস্টমস বিদেশি মুদ্রা ঘোষণা করতে বলে, তবে কোনো সীমা প্রকাশ করে না; +94 11 2221333 নম্বরে মিলিয়ে নিন। শ্রীলঙ্কা হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষভুক্তই নয়, তাই শ্রীলঙ্কার জন্য বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল কোনো কাজে আসে না — পুরোনো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন চেইনই চলবে। বেড়াতে গেলে কোনো কাগজই লাগে না, তাই এটি তখনই দরকারি যখন সফরটা পড়াশোনা, কাজ বা বিয়েতে গড়ায়। সব তথ্য ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নিচের সূত্রগুলো থেকে পড়া।
সরকারি সূত্র: Sri Lanka ETA — অফিসিয়াল ফি তালিকা · Department of Immigration & Emigration — ভিসা ফি, এক্সটেনশন ও ওভারস্টে জরিমানা · ফ্রি ভিসা বিজ্ঞপ্তি — যোগ্য ৪০টি দেশ
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা · বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা
শ্রীলঙ্কা যাওয়ার পরিকল্পনা? এখনকার দশ মিনিট এয়ারপোর্টে ফিরে আসার চেয়ে ভালো।
সরকারি ফি US$২০, আর ফর্ম ভরতে কয়েক মিনিট — এটা আমরা সোজাসুজি বলে দিচ্ছি। আলোচনার মতো বিষয় হলো আপনার পাসপোর্ট, তারিখ আর কাউন্টারে একটা প্রশ্নের মুখে আপনার ফাইল টিকবে কি না। চলে আসুন, একসঙ্গে দেখি।
ফ্রি পরামর্শ নিন →