Thailand-এর ভিসা-অব্যাহতির তালিকায় বাংলাদেশ নেই, তাই ভিসা লাগবেই। ওড়ার আগে Tourist Visa (TR) নিলে থাকতে পারবেন ৬০ দিন; বদলে Visa on Arrival নিলে পাবেন ১৫ দিন। ঢাকার Royal Thai Embassy চায় জনপ্রতি অন্তত ২০,০০০ বাথ অথবা ৬০,০০০ টাকার প্রমাণ — আর এই দুইয়ের মধ্যে টাকার শর্তটাই সস্তা। এছাড়া নামার আগে সবাইকে বিনামূল্যের Thailand Digital Arrival Card জমা দিতে হয়।
আপনার জন্য কোন পথ — e-Visa না Visa on Arrival?
বেশিরভাগ গাইডে থাইল্যান্ডের বিশ রকম ভিসার তালিকা থাকে। অথচ একজন বাংলাদেশি পর্যটককে বাছতে হয় কেবল দুটির মধ্যে। দুটি পাশাপাশি রাখলাম।
- ৬০ দিন থাকা যায়, Immigration অফিসে একবার আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়
- আবেদন হয় থাইল্যান্ডের সরকারি e-Visa ব্যবস্থায়, অনলাইনে
- পুরো কাগজপত্র লাগে — ফান্ড আর অফিসের চিঠিসহ
- ফেরতযোগ্য নয় এমন টিকিট কাটার আগেই উত্তরটা জেনে যান
- মাত্র ১৫ দিন, আর Tourism Authority of Thailand ফি প্রকাশ করেছে ২,০০০ বাথ
- ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য
- সিদ্ধান্ত হয় কাউন্টারে — না হলে তত ক্ষণে আপনি উড়ে এসে গেছেন
- শুধু স্বল্প ও নির্দিষ্ট সফরের জন্যই যুক্তিসংগত
Visa on Arrival আসলে শর্টকাট নয়, ঝুঁকি হস্তান্তর। TR ভিসায় সিদ্ধান্তটা হয় আপনি যখন বাংলাদেশেই আছেন আর টিকিটের টাকাও নিরাপদ। Visa on Arrival-এ সিদ্ধান্ত হয় নামার পর, এমন একজন কর্মকর্তার হাতে যিনি আপনার ফাইল আগে কখনো দেখেননি। থাকার সময় চার গুণ বেশি পাওয়ার জন্য কাগজের ঝামেলাটুকু করাই ভালো।
দুই পথে খরচ আর সুবিধা আসলে কী?
| বিষয় | e-Visa (TR) | On Arrival |
|---|---|---|
| থাকা | ৬০ দিন | ১৫ দিন |
| বাড়ানো | +৩০ দিন | সীমিত |
| ফি | প্রকাশিত নয় | ২,০০০ বাথ |
| টাকায় ফি | প্রকাশিত নয় | ≈৳৭,৩৬১ |
| সিদ্ধান্ত | ওড়ার আগে | নামার পরে |
| ফান্ড | ৳৬০,০০০ / জন | লাগবে |
| অ্যারাইভাল কার্ড | TDAC, ফ্রি | TDAC, ফ্রি |
TR ফি নিয়ে অনুমান করার চেয়ে চুপ থাকাই ভালো। ঢাকার Royal Thai Embassy-র নিজের Tourist Visa পাতায় কাগজের তালিকা আছে, কিন্তু ভিসা ফি, প্রক্রিয়াকরণের সময় বা মেয়াদের কোনোটিই প্রকাশ করা নেই। কোনো এজেন্সি নির্দিষ্ট "দূতাবাস ফি" বললে সেটা আসলে তাদের প্যাকেজের দাম। আসল ফি দেখা যায় সরকারি e-Visa আবেদনের ভেতরেই। এখানে বাথের হিসাব ধরা হয়েছে ১ বাথ = ৳৩.৬৮০৭ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬), আর হিসাবটা আমাদের।
কত টাকা দেখাতে হবে?
এই শর্তেই বেশিরভাগ ফাইলের ভাগ্য ঠিক হয়, আর দূতাবাস কথাটা পরিষ্কার করেই বলেছে: জনপ্রতি অন্তত ২০,০০০ বাথ ও পরিবারপ্রতি ৪০,০০০ বাথ, অথবা জনপ্রতি ৬০,০০০ টাকা ও পরিবারপ্রতি ১,২০,০০০ টাকা। সেই সঙ্গে বলা আছে, গ্রহণ করা হবে কেবল মূল ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সচ্ছলতার সনদ।
দূতাবাস আপনাকে মুদ্রা বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, আর দুটি শর্ত সমান নয়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর রেটে ২০,০০০ বাথ মানে প্রায় ৳৭৩,৬১৩, অথচ টাকার শর্তটি নির্দিষ্ট ৳৬০,০০০ — অর্থাৎ জনপ্রতি প্রায় ৳১৩,৬০০ কম দেখালেই চলে। আপনার স্টেটমেন্ট টাকায় হলে আপনি কম উচ্চতার বারটির সঙ্গেই মাপা হচ্ছেন। টাকা এদিক-ওদিক সরানোর আগে শর্তটা যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই পড়ুন।
দূতাবাস কোন কোন কাগজ চায়?
Tourist Visa TR-এর প্রকাশিত পুরো তালিকাটি এখানে। স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন — মানুষ সাধারণত এই তালিকার টুকরো টুকরো অংশই ভুলে যায়।
- আবেদন ফরম, পূরণ করা ও আবেদনকারীর স্বাক্ষরসহ
- অন্তত ৬ মাস মেয়াদের পাসপোর্ট, সঙ্গে স্টিকার ও সিলের জন্য অন্তত ২টি খালি পাতা
- পাসপোর্টের তথ্য পাতা, সাম্প্রতিক থাই ভিসার পাতা ও নবায়নের পাতার কপি
- দুই কপি রঙিন ছবি, ৩.৫ × ৪.৫ সেমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা
- আর্থিক প্রমাণ — কেবল মূল ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সচ্ছলতার সনদ
- রিটার্ন টিকিট অথবা বুকিং নিশ্চয়তার কপি
- আপনার নিজের ভিসার আবেদনপত্র, সঙ্গে বেতনসহ অফিসের সুপারিশপত্র
- পেশার প্রমাণ: চিকিৎসকদের BMDC সনদ, আইনজীবীদের Bar Council সনদ, শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রমাণ
- পরিবার একসঙ্গে আবেদন করলে সম্পর্কের প্রমাণ
- বিবাহ সনদ — বাংলায় হলে নোটারি করা ইংরেজি অনুবাদসহ
- ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, নোটারি করা অনুবাদ ও ফটোকপিসহ
- ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য অভিভাবকের সম্মতি

TDAC জিনিসটা কী, আর মানুষ এতে আটকায় কেন?
কারণ এটি নতুন, বিনামূল্যের, আর আপনার ভিসার কোথাও এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া থাকে না। ২০২৫ সালের ১ মে থেকে আকাশ, স্থল বা জলপথে Thailand-এ ঢোকা প্রত্যেক অ-থাই নাগরিককে পৌঁছানোর আগে অনলাইনে Thailand Digital Arrival Card জমা দিতে হয়, tdac.immigration.go.th ঠিকানায়। এটি পুরনো কাগজের অ্যারাইভাল কার্ডের জায়গা নিয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা এটাই — তিন সপ্তাহ আগে নয়, আবার বিমানবন্দরে গিয়েও নয়। বৈধ ভিসা থাকলেও ছাড় নেই, আর TDAC এমন কিছু নয় যা ট্রাভেল এজেন্ট আপনাআপনি করে দেয়। এতে কোনো খরচ নেই — ঠিক এ কারণেই কেউ "TDAC ফি" চাইলে তিনি একটি বিনামূল্যের সরকারি ফরমের জন্য টাকা নিচ্ছেন।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটা কেমন?
বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট আবেদন কেন বাতিল হয়?
নাটকীয় কোনো একটা কারণে খুব কমই। প্রায় সব সময় নিচের কোনো একটি কারণে — আর প্রতিটিই এড়ানো সম্ভব।
- হঠাৎ করে আসা টাকা। আবেদনের কয়েক দিন আগে জমা হওয়া ব্যালান্স দেখে প্রশ্ন ওঠে, টাকাটা আসলে কার।
- ব্যাংক স্টেটমেন্টের ফটোকপি। দূতাবাস বলেই দিয়েছে, কেবল মূল স্টেটমেন্ট ও সচ্ছলতার সনদ।
- ভুল মাপের ছবি। ৩.৫ × ৪.৫ সেমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা — পুরনো পাসপোর্ট ছবি নয়।
- বাংলাদেশের সঙ্গে দুর্বল বন্ধন। অফিসের চিঠিই দেখায় আপনার ফিরে আসার কারণ আছে।
- নোটারি অনুবাদ ছাড়া বাংলা কাগজ, বিশেষ করে বিবাহ সনদ আর ট্রেড লাইসেন্স।
- ২টি খালি পাতা নেই এমন পাসপোর্ট, কিংবা ৬ মাসের কম মেয়াদ।
যা যাচাই করা যায়নি, সেটা খোলাখুলি বলছি। দূতাবাসের পাতায় TR-এর ফি, প্রক্রিয়াকরণের সময় বা ভিসার মেয়াদ প্রকাশ করা নেই — তাই এই লেখায় সেগুলো লেখা হয়নি। Tourism Authority of Thailand অনুযায়ী Visa on Arrival ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য, ১৫ দিনের জন্য ২,০০০ বাথ; তবে ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কোনো থাই সরকারি পাতা থেকে আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি, কেবল দ্বিতীয় সারির সূত্রে পেয়েছি। তাই on-arrival পথের ওপর ভরসা করার আগে দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। বাকি সবকিছু Royal Thai Embassy Dhaka ও Tourism Authority of Thailand থেকে নেওয়া, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পড়া।
সরকারি উৎস: Royal Thai Embassy Dhaka — Tourist Visa TR · Thailand Digital Arrival Card · Tourism Authority of Thailand — Passport & Visa
Thailand যাওয়ার পরিকল্পনা? বুকিংয়ের আগে ফাইলটা দেখে নিই
আমরা যত রিফিউজাল দেখি, তার বেশিরভাগই আসলে ঠিক হয়ে গিয়েছিল ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর অফিসের চিঠিতেই — দূতাবাসের ধারেকাছে যাওয়ার সপ্তাহ কয়েক আগে। কাগজগুলো নিয়ে আসুন, আমরা সৎভাবে বলে দেব আপনার ফাইল প্রস্তুত কি না, আর না হলে ঠিক কোনটা আগে ঠিক করতে হবে।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →
