Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: F-1 খরচ, ইন্টারভিউ ও ফান্ড

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার F-1 স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: US$১৮৫ ভিসা ফি, US$৩৫০ SEVIS, I-20, DS-160, ঢাকার ইন্টারভিউয়ের টিপস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর টাকায় মোট খরচ।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 usa

Read in English →
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: F-1 খরচ, ইন্টারভিউ ও ফান্ড

প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বারিধারার মার্কিন দূতাবাসে কাচের ওপারে বসে থাকা অফিসারের সামনে দাঁড়ান — দুই মিনিটের একটা ইন্টারভিউ ঠিক করে দেয় পরের চার বছর। "আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসা খরচ কত" কিংবা "আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসা ইন্টারভিউ" — এমন খোঁজ প্রতি ফল ইনটেকের আগে বেড়ে যায়। ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে F-1 স্টুডেন্ট ভিসায় কত খরচ, কী তৈরি রাখবেন আর ইন্টারভিউ কীভাবে হয় — সব এখানে।

US$১৮৫ভিসা আবেদন (MRV) ফি
US$৩৫০SEVIS I-901 ফি
৩৬৫ দিনশুরুর সর্বোচ্চ যত আগে ভিসা হয়
গ্রীষ্মে হার্ভার্ড ইয়ার্ড, F-1 স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদনকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক
হার্ভার্ড ইয়ার্ড — ফর্ম I-20 দেওয়া হাজারো SEVP-অনুমোদিত ক্যাম্পাসের একটি। ছবি: Marco Almbauer, Wikimedia Commons, Public domain (cropped).

বাংলাদেশ থেকে F-1 ভিসায় কত খরচ?

অফিসিয়াল ফি ঠিক করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) আর SEVP কর্মসূচি। মনে রাখবেন, ভিসা ফি প্রতিবার ইন্টারভিউয়ের জন্য দিতে হয় — প্রত্যাখ্যাত হয়ে আবার আবেদন করলে আবার ফি।

খাতUS$৳ (আনুমানিক)
MRV ভিসা আবেদন ফি১৮৫≈২২,৬০০
SEVIS I-901 ফি৩৫০≈৪২,৭০০
ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি (ইস্যুর সময়) (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)২৫০≈৩০,৫০০
টিউশন + থাকা, ১ বছর (সাধারণ, I-20 অনুযায়ী)৩৫,০০০–৭৫,০০০≈৪৩–৯২ লাখ
ঢাকা–যুক্তরাষ্ট্র ফ্লাইট (একমুখী)—≈৯০,০০০–১,৬০,০০০

টাকার অঙ্কগুলো আনুমানিক, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি US$ প্রায় ৳১২২ ধরে। প্রতিষ্ঠান বছরে ঠিক কত খরচ দেখাতে বলছে, তা আপনার I-20-তে লেখা থাকে।

কত টাকার ফান্ড দেখাতে হয়?

দেশজুড়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই। দেখাতে হয় আপনার I-20-তে লেখা "এস্টিমেটেড এক্সপেন্সেস", সাধারণত প্রথম বছরের। অফিসাররা দেখেন টাকা সহজে তোলা যায় কিনা, বৈধ কিনা আর ব্যাখ্যা করা যায় কিনা।

  • আপনার বা স্পনসরের (সাধারণত বাবা-মা) ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
  • স্পনসরের আয়ের প্রমাণ: বেতনের সার্টিফিকেট, ব্যবসার কাগজ, ট্যাক্স রিটার্ন।
  • I-20-তে দেখানো স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেখানোর অঙ্ক কমায়।
  • বাংলাদেশি ব্যাংকের এডুকেশন লোনের স্যাংশন লেটার প্রমাণ হিসেবে চলে।
  • সাম্প্রতিক যেকোনো বড় জমার উৎস এক বাক্যে বলতে পারার মতো প্রস্তুত থাকুন।

বাংলাদেশ থেকে F-1 ভিসার আবেদন ধাপে ধাপে কীভাবে করবেন?

1

ভর্তি ও I-20

SEVP-অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অফার গ্রহণ করুন; I-20-র তথ্য মিলিয়ে নিন।

2

SEVIS ফি দিন

অফিসিয়াল I-901 সাইটে US$৩৫০; রসিদ প্রিন্ট করুন।

3

DS-160 পূরণ

ছবিসহ অনলাইন ফর্ম; কনফার্মেশন পাতা প্রিন্ট করুন।

4

ভিসা ফি ও বুকিং

US$১৮৫ দিয়ে ঢাকায় বায়োমেট্রিক ও ইন্টারভিউ বুক করুন।

5

ইন্টারভিউ দিন

কাগজ নিয়ে যান; পরিষ্কার উত্তর দিন।

6

পাসপোর্ট হাতে নিন

যাত্রার আগে ভিসার তথ্য ও SEVIS নম্বর মিলিয়ে নিন।

ঢাকায় ইন্টারভিউ কীভাবে হয়?

ইন্টারভিউ ছোট — প্রায়ই দুই-তিন মিনিট। অফিসার ঠিক করেন আপনি পরিষ্কার পরিকল্পনা ও যথেষ্ট টাকাসহ প্রকৃত শিক্ষার্থী কিনা, আর F-1 স্ট্যাটাসের নিয়ম মানবেন কিনা।

  • বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, কেন বেছে নিলেন আর ক্যারিয়ারের সাথে কীভাবে যুক্ত — জেনে যান।
  • খরচের ব্যাখ্যা পরিষ্কার দিন: কে দিচ্ছেন, কত, কোন আয় থেকে।
  • নিজের ভাষায় সংক্ষেপে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিন; মুখস্থ বক্তৃতা শোনায় রিহার্সেলের মতো।
  • I-20, SEVIS রসিদ, DS-160 কনফার্মেশন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, পাসপোর্ট ও আর্থিক কাগজ নিয়ে যান — তবে চাইলে তবেই দেখান।
  • ২১৪(বি) ধারায় প্রত্যাখ্যাত হলে কেস শক্ত করে আবার আবেদন করা যায় (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

F-1 ইন্টারভিউয়ের ফোল্ডারে কী থাকবে?

  • থাকার মেয়াদের পরও অন্তত ছয় মাস বৈধ পাসপোর্ট
  • আপনার ও প্রতিষ্ঠানের সই করা ফর্ম I-20
  • SEVIS I-901 পেমেন্টের রসিদ
  • DS-160 কনফার্মেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার
  • ভর্তির চিঠি, স্কলারশিপের চিঠি থাকলে
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও স্পনসরের আয়ের প্রমাণ
  • ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদ ও টেস্ট স্কোর

কখন আবেদন আর কখন যাত্রা?

প্রোগ্রাম শুরুর ৩৬৫ দিন আগে পর্যন্ত F-1 ভিসা ইস্যু হতে পারে, তবে I-20-তে লেখা শুরুর তারিখের ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা যায় না। ফল ইনটেকের আগে এপ্রিল থেকে জুলাই ঢাকায় ইন্টারভিউয়ের স্লট কমে যায় (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য), তাই I-20 পেলেই বুক করুন। ক্যাম্পাসে F-1 শিক্ষার্থীরা সাধারণত সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন।

মনে রাখুন: ২০২৫–২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফির নিয়ম বদলেছে। যেদিন টাকা দেবেন, সেদিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফির পাতা আর ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাইট দেখুন, আর সব রসিদ রাখুন।

টিউশন ফি ও থাকার খরচের টাকা কীভাবে পাঠাবেন?

সংক্ষেপে: অফার লেটার দেখিয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠান, আর পৌঁছানোর জন্য অল্প কিছু এনডোর্স করা নগদ ডলার সাথে রাখুন।

  • ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল: বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা মেনে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর টিউশন ও থাকার খরচ পাঠায়। আগেভাগে স্টুডেন্ট ফাইল খুলুন, কারণ ব্যাংক অফার লেটার, ভিসা বা ভর্তির কাগজ আর পাসপোর্ট চায়।
  • সব রসিদ রাখুন: রেমিট্যান্স অ্যাডভাইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসিদ আর ব্যাংক সার্টিফিকেট একসাথে রাখুন। ভিসা অফিসার এবং পরে ভিসা নবায়ন — দুই জায়গাতেই পরিষ্কার লেনদেনের ইতিহাস দেখা হয়।
  • পৌঁছানোর সময়ের নগদ: প্রথম কয়েক দিনের জন্য অল্প এনডোর্স করা বৈদেশিক মুদ্রা যথেষ্ট; স্থানীয় অ্যাকাউন্ট খোলা পর্যন্ত বাকিটা ডুয়াল-কারেন্সি কার্ডে চলে।
  • স্পনসরের কাগজ: বাবা-মা খরচ দিলে তাঁদের আয়ের প্রমাণ, ট্যাক্স রিটার্ন আর স্পনসরশিপ লেটার তৈরি রাখুন — নামের বানান যেন পাসপোর্টের সাথে মেলে।
  • হঠাৎ বড় জমা নয়: ব্যাংক স্টেটমেন্টে ব্যাখ্যাহীন বড় অঙ্কের জমা প্রশ্ন তোলার একটা সাধারণ কারণ; সঞ্চয়ের স্বাভাবিক ইতিহাস থাকা ভালো।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসার ফি কত?

MRV ভিসা ফি US$১৮৫ আর SEVIS I-901 ফি US$৩৫০। ইস্যুর সময় US$২৫০ ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফির কথা শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটে বলা হচ্ছে।

F-1-এর জন্য ব্যাংকে কত টাকা লাগে?

I-20-তে লেখা এস্টিমেটেড এক্সপেন্সেস, সাধারণত প্রথম বছরের টিউশন ও থাকার খরচ, স্কলারশিপ বাদ দিয়ে।

ইন্টারভিউ কোথায় হয়?

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে।

কত আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া যায়?

I-20-তে লেখা শুরুর তারিখের ৩০ দিনের বেশি আগে নয়।

F-1 ভিসায় কি কাজ করা যায়?

সাধারণত সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত; ক্যাম্পাসের বাইরের কাজে আলাদা অনুমতি লাগে।

আরও পড়ুন: শক্তিশালী SOP কীভাবে লিখবেন · বাংলাদেশে এডুকেশন লোন · ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন চেকলিস্ট

মার্কিন দূতাবাসের ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

ওয়ান-টু-ওয়ান মক ইন্টারভিউতে আপনার I-20, ফান্ডের কাগজ আর উত্তরগুলো দেখে দেব, যাতে শান্ত ও পরিষ্কারভাবে ঢুকতে পারেন।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন