Skip to main content
← ব্লগে ফিরে যান

বিদেশে MBBS ও BMDC Eligibility Certificate: ২০২৭-২৮ গাইড

২০২৭-২৮ সেশনে বিদেশে MBBS পড়তে BMDC Eligibility Certificate-এ কী কী কাগজ লাগে, ফি কত, আর কোন একটি কাগজ পুরো ব্যাপারটা ঠিক করে দেয় — জেনে নিন।

প্রকাশিত 28 Sep, 2026 China Russia Philippines

Read in English →
বিদেশে MBBS ও BMDC Eligibility Certificate: ২০২৭-২৮ গাইড

প্রতি বছর কিছু বাংলাদেশি পরিবার পাঁচ বছর আর অনেক টাকা খরচ করে সন্তানকে বিদেশে MBBS পড়ান, আর শেষে জানতে পারেন — দেশে ফিরে চিকিৎসা পেশায় ঢোকার কাগজপত্রের কাজটা শুরু করার কথা ছিল সন্তান দেশ ছাড়ার আগেই। এই দরজাটার নাম Bangladesh Medical and Dental Council, আর এটা এড়ানোর উপায় নেই।

২০২৭-২৮ সেশনে বিদেশে মেডিকেল পড়ার পরিকল্পনা থাকলে এই লেখায় পাবেন — BMDC কী কী চায়, কেন একটিমাত্র কাগজ পুরো ব্যাপারটা ঠিক করে দেয়, আর বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরলে কী হয়। নিচের প্রতিটি শর্ত BMDC-র নিজের ওয়েবসাইট থেকে পড়া।

১,০০০ টাকাEligibility Certificate ফি
৮,০০০ টাকাRQE প্রসেসিং ফি
২ ধাপযাওয়ার আগে, আর ফেরার পরে

BMDC Eligibility Certificate জিনিসটা কী?

বাংলাদেশে চিকিৎসক ও ডেন্টিস্টদের নিবন্ধন দেয় BMDC — এটাই আইনি সংস্থা। নিবন্ধন না থাকলে বৈধভাবে চিকিৎসা করা যায় না, বিদেশি ডিগ্রি যত ভালোই হোক। এই কাউন্সিল Eligibility Certificate নামে একটি কাগজ দেয়, আর সেটি পাওয়ার শর্তের একটি পাতাও প্রকাশ করে।

BMDC ঠিক কী বলছে, সেটা নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। শর্তের পাতায় কাগজ ও ফি-র কথা আছে, কিন্তু আমরা যে লেখাটা পড়েছি সেখানে স্পষ্ট করে বলা নেই যে সনদটি বিশেষভাবে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য। যোগসূত্রটা স্পষ্ট হয় প্রক্রিয়ার অন্য প্রান্তে গিয়ে — বিদেশি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করাদের জন্য Registration Qualifying Examination-এর যে ফরম কাউন্সিল প্রকাশ করেছে, সেখানে আবেদনকারীকে লিখতে হয় Eligibility Certificate-এর ক্রমিক নম্বর ও ইস্যুর তারিখ, আর আবেদনের সঙ্গে মূল সনদটিও জমা দিতে হয়।

অর্থাৎ শেষে যে কাগজটা লাগবে, BMDC ধরেই নিচ্ছে সেটা আপনার আগে থেকেই আছে। যাঁরা ভাবেন পরে একসময় করিয়ে নেওয়া যাবে, তাঁরাই বিপদে পড়েন।

সনদটা আগেভাগে করানোর আরেকটা কারণও আছে। BMDC-র তালিকার কাগজগুলো বাংলাদেশে থাকতে জোগাড় করা সহজ, আর পরে ক্রমশ কঠিন। সত্যায়িত ছবির পেছনে সই করাতে হয় একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাকে দিয়ে। O-Level ও A-Level শিক্ষার্থীদের সমমান সনদ আনতে হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। গ্যাপ ইয়ারে ঢাকায় বসে এসব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ক্লাস চলাকালে অন্য দেশের হোস্টেল থেকে এগুলো সামলানো রীতিমতো ঝামেলার।

BMDC কোন কোন কাগজ চায়?

Eligibility Certificate-এর প্রকাশিত তালিকাটা ছোট, আর একটা বাদে প্রতিটি কাগজই সাধারণ।

  • SSC বা সমমান এবং HSC বা সমমান সার্টিফিকেট ও নম্বরপত্রের মূল কপি, সঙ্গে ফটোকপি
  • পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি সাম্প্রতিক ছবি, পেছনে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়ন
  • জন্মনিবন্ধন সনদ, সঙ্গে ফটোকপি
  • O-Level ও A-Level শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমমান সনদ
  • MBBS/BDS ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফলাফলের কপি
  • ১,০০০ টাকা ফি, অনলাইন ইনভয়েসে BMDC বরাবর

ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

তালিকাটা আবার পড়ুন, একটা জিনিস আলাদা হয়ে চোখে পড়বে। BMDC চায় বাংলাদেশের MBBS/BDS ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং ফলাফল — অর্থাৎ দেশে হওয়া জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কাগজ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কিছু নয়।

এর বাস্তব ফল বেশ বড়। যে শিক্ষার্থী কখনো বাংলাদেশের ভর্তি পরীক্ষায় বসেননি, তাঁর কাছে দেখানোর মতো প্রবেশপত্রও নেই, ফলাফলও নেই, আর পরে সেটা বানিয়ে নেওয়ার কোনো উপায়ও নেই। পরীক্ষাটি বছরে একবার হয়, আর কাগজ থাকে কেবল তাঁদেরই যাঁরা পরীক্ষা দিয়েছেন।

সাদা অ্যাপ্রন পরা চিকিৎসক হাতে MBBS ডিপ্লোমা ধরে আছেন, বিদেশে পড়া বাংলাদেশি চিকিৎসকদের BMDC নিবন্ধনের প্রতীক
বিদেশি MBBS বাংলাদেশে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শুরু, শেষ নয়।

বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরলে কী হয়?

পাস করা মানেই নিবন্ধন নয়। বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে পাস করা বাংলাদেশিকে BMDC-র নিবন্ধন পাওয়ার আগে Registration Qualifying Examination পাস করতে হয়। কাউন্সিল এই পরীক্ষার শর্তের ফরম প্রকাশ করে, আর সেটি বেশ কড়া একটি নথি।

ওই ফরমের একটা ছোট বিষয় বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীরা আসলে কোথায় যান তা নীরবে বলে দেয় — সেখানে চাওয়া হয়েছে "MBBS Degree original Chinese & English" কপি। বাজারে যে গন্তব্যটির আধিপত্য, ফরমটি লেখাই হয়েছে সেটিকে ঘিরে।

Registration Qualifying Examination-এ কী কী লাগে?

ফরমে ঘোষণা করার তথ্য আর জমা দেওয়ার কাগজ, দুই-ই আছে। সবচেয়ে বেশি অবাক করে সত্যায়নের ধাপগুলো।

কাগজরূপসত্যায়ন
Eligibility Certificateমূল + কপিBMDC থেকে
ডিগ্রি সার্টিফিকেটমূল + কপিদূতাবাস, পরে MOFA
ট্রান্সক্রিপ্টমূল + কপিদূতাবাস, পরে MOFA
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়নমূল + কপিদূতাবাস, পরে MOFA
SSC ও HSC কাগজমূল + কপিযেমন ইস্যু
পাসপোর্টকপিস্টাডি ভিসা থাকতে হবে
ছবি৩ কপিসত্যায়িত
প্রকাশিত ফলাফলকপিযেমন ইস্যু

ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট আর প্রত্যয়নপত্রের ঘরে সত্যায়নের কলামটা খেয়াল করুন — সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশন দিয়ে সত্যায়ন, তারপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়ে পুনঃসত্যায়ন। এটাই প্রচলিত সত্যায়নের শিকল। এটা apostille নয়, যদিও ২০২৫ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ Apostille Convention-এর সদস্য। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজের প্রমাণের নিয়ম নিজেই ঠিক করতে পারে, আর BMDC পুরনো নিয়মটাই রেখে দিয়েছে।

ফরমে আরও চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, ডাকযোগাযোগের ঠিকানা ও ইমেইল, একজন ডিন বা ক্লাস টিচারের ইমেইল, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডাউনলোড করা যাচাই যাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম তালিকাভুক্ত দেখা যায়। BMDC চায় প্রয়োজনে সরাসরি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লিখতে পারতে।

কোথায় পড়বেন তা ঠিক করার সময়ই এই যাচাইয়ের শর্তটা নিয়ে একটু ভাবা দরকার। শুরুতে যে বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করা কঠিন, শেষেও সেটি যাচাই করা কঠিনই থাকবে — আর তত দিনে পাঁচ বছর আর পুরো টিউশন ফি খরচ হয়ে গেছে। যে কোনো দেশের জন্যই আমরা একই পরামর্শ দিই: সেই দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সরকারি তালিকাটা বের করুন, আর দেখুন বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটোই সেখানে আছে কি না। বেশিরভাগ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন আর প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন আলাদা জিনিস।

পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ কত?

প্রকাশিত দুটি অঙ্ক মেডিকেল ডিগ্রির খরচের তুলনায় সামান্য, তবে এগুলো বাস্তব, আর আসলে ছদ্মবেশে সময়সীমা।

BMDC Eligibility Certificate-এর কোনো প্রক্রিয়াকরণ সময় প্রকাশ করে না, আর আমরা এর কোনো সরকারি সেবা মানও পাইনি। শর্তের পাতায় সনদটি কবের মধ্যে নিতে হবে সে কথাও লেখা নেই। তাই "দেশ ছাড়ার আগে" কথাটাকে বুদ্ধিমানের পরিকল্পনা হিসেবে নিন, উদ্ধৃত নিয়ম হিসেবে নয় — আর কাজ শুরুর আগে বর্তমান শর্ত ও ফি BMDC থেকে সরাসরি নিশ্চিত করে নিন।

কোন ভুলগুলো শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভোগায়?

চারটি ভুল বারবার ফিরে আসে, আর কোনোটাই মেধার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

১
Eligibility Certificate ছাড়াই দেশ ছাড়া। RQE ফরমে এর ক্রমিক নম্বর চাওয়া হয়। বছর কয়েক পরে অন্য দেশ থেকে বসে এটা সামলানো দেশে বসে করার চেয়ে অনেক কঠিন।
২
Apostille-ই যথেষ্ট ভেবে নেওয়া। BMDC-র ফরম চায় দূতাবাসের সত্যায়ন, তারপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনঃসত্যায়ন। দুটোর জন্যই সময় হাতে রাখুন।
৩
ভর্তি পরীক্ষার কাগজ হারিয়ে ফেলা। প্রবেশপত্র ও ফলাফল BMDC-র তালিকাতেই আছে। রওনা দেওয়ার আগে স্ক্যান করে সত্যায়িত কপি রেখে দিন।
৪
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রমাণ দেওয়া যায় না সেটি বেছে নেওয়া। BMDC শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই চায়। অফার নেওয়ার আগে দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়টি তার নিজের দেশের সরকারি তালিকায় আছে কি না।

২০২৭-২৮ সেশনে বিদেশে মেডিকেলের পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?

বিদেশ থেকে নয়, শুরু করুন বাংলাদেশের দিক থেকে। BMDC আপনার কাছে কী চাইবে সেটা আগে নিশ্চিত করুন, দেশে থাকতেই যখন সব সহজে পাওয়া যায় তখনই সেগুলো জোগাড় করুন, আর তারপর বিশ্ববিদ্যালয় মেলান। অফার লেটার পাওয়া সহজ; যে পরীক্ষায় বসেননি তার প্রবেশপত্র জোগাড় করা অসম্ভব।

Eduvisa-য় আমরা দেখি, মেডিকেলের ফাইল ফলাফলের চেয়ে অনেক বেশি আটকায় কাগজপত্রে। যিনি শুরুতেই এক বিকেল খরচ করে BMDC-র কাগজগুলো গুছিয়ে রাখেন, তিনি সাধারণত শেষ বর্ষে এসে আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেন না।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে China স্টুডেন্ট ভিসা · বাংলাদেশি apostille ও বিদেশে পড়ার কাগজপত্র

এই লেখায় ব্যবহৃত সরকারি উৎস: BMDC-র Eligibility Certificate-এর শর্তাবলি এবং Registration Qualifying Examination-এর প্রকাশিত শর্তের ফরম।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — সরাসরি যাচাই করুন। এখানকার শর্ত, ফি ও ফরম bmdc.org.bd থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পড়া। মেডিকেল নিবন্ধন আপনার পেশায় থাকার অধিকারের সঙ্গে জড়িত, তাই কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার বা টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি বিষয় BMDC থেকে নিশ্চিত করে নিন।

বিদেশে MBBS ভাবছেন? আগে BMDC-র দিকটা দেখে নিই

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বাছাই করার আগে আমাদের সঙ্গে বসুন। BMDC-র কোন কাগজগুলো আপনি দিতে পারবেন আর কোনগুলো পারবেন না, সেটা আমরা একসঙ্গে মিলিয়ে দেখব। কথাটা অল্প সময়ের, আর বিদেশে শেষ বর্ষে গিয়ে বোঝার চেয়ে এখন বুঝে নেওয়াই অনেক ভালো।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন