বাংলাদেশের একটি কনসালটেন্সি অফিসে এক পরিবার ঢুকল, হাতে ছাপানো ব্রোশিওর। মলাটে লেখা — "MBBS in the Philippines — HSC-এর পরেই সরাসরি ভর্তি।" ব্রোশিওরে যে দেশটির নাম, সেটি বেছে নেওয়া মোটেও খারাপ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু ডিগ্রি নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি, সেটি ভুল। Philippines-এ ডাক্তারি পড়া হয় দ্বিতীয় ডিগ্রি হিসেবে — আগে একটি স্নাতক শেষ করতে হয়, তারপর জাতীয় একটি ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়, আর তারপরই শুরু হয় MD-র চার বছর। HSC থেকে সোজা কেউ ঢোকে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজেদের ভর্তি পাতায় লেখা এই একটি তথ্যই ঠিক করে দেয়, পরিকল্পনাটা কাজে আসবে নাকি চারটি বছর নষ্ট হবে।
তাই ২০২৭-২৮ সেশনে বাংলাদেশ থেকে Philippines স্টুডেন্ট ভিসা আসলে কী দাঁড়ায়, সেটাই খুলে বলছি — 9(f) ভিসা, যে পারমিটটা আসলে ভিসা নয়, ঢাকায় সত্যিই বসে থাকা দূতাবাস, আর সরকারের একটি আদেশ যেটি সরকারেরই আরেকটি পাতার সঙ্গে সোজাসুজি সংঘাতে যায়।
Philippines-এ যেকোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দরকার 9(f) শিক্ষার্থী ভিসা। ঢাকায় Philippines-এর পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস আছে, তাই দিল্লি যেতে হয় না। বাংলাদেশের apostille এখানে গ্রহণযোগ্য। তবে Philippines-এর "MD" স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডিগ্রি — শুধু HSC সার্টিফিকেট দিয়ে ডাক্তারিতে ঢোকা যাবে না।
Philippines স্টুডেন্ট ভিসা আসলে কী, আর কার লাগে?
দুটি আলাদা কাগজ আছে, আর এই দুটি গুলিয়ে ফেলাই শুরুর দিকের সবচেয়ে সাধারণ ভুল। 9(f) শিক্ষার্থী ভিসা ১৮ বছরের বেশি বয়সী বিদেশিদের জন্য, যাঁরা উচ্চমাধ্যমিকের ওপরের কোনো কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন — স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি কিংবা ধর্মতত্ত্বের প্রোগ্রাম। আর Special Study Permit (SSP) তাঁদের জন্য, যাঁরা পূর্ণ শিক্ষার্থী ভিসার যোগ্যতা রাখেন না — সংক্ষিপ্ত কোর্স, ভাষা শেখা, কিংবা ডিগ্রি নয় এমন এক সেমিস্টারের কিছু।
ডিগ্রির জন্য যাচ্ছেন মানে আপনার দরকার 9(f)। দেশের ভেতরের ধাপগুলো Bureau of Immigration নিজেদের পাতাতেই সাজিয়ে দিয়েছে: Central Receiving Unit-এ কাগজ জমা, ফি পরিশোধ, Alien Registration Division-এ বায়োমেট্রিক, আর পাসপোর্টে ভিসা বসার পর ACR I-Card সংগ্রহ।
এই ACR I-Card নিয়ে শিক্ষার্থীরা যতটা ভাবেন, বিষয়টা তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার বিদেশি নিবন্ধন কার্ড, শুধু Philippines-এর ভেতরেই ইস্যু হয়, আর বাংলাদেশে যত প্রস্তুতিই নিন, এর বিকল্প হয় না। বায়োমেট্রিক নেওয়া হয় Manila-তে কিংবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিসে — ঢাকায় নয়।
বাংলাদেশে Philippines-এর দূতাবাস সত্যিই আছে?
আছে — আর এটি স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ কম খরচের গন্তব্য নিয়ে লেখা অনেক গাইড চুপচাপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দিল্লির দিকে পাঠিয়ে দেয়। ঢাকার Philippines দূতাবাস একটি আবাসিক মিশন, নিজস্ব স্বীকৃত রাষ্ট্রদূত আছেন, আর এই তথ্য Philippines-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজের দূতাবাস-সাইটেই প্রকাশিত। অন্য দেশের অনাবাসিক মিশনের ওপর আপনি নির্ভরশীল নন, আর Philippines-এ আবেদন করার জন্য ভারতের ভিসা জোগাড় করতে কাউকে টাকা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
একটি ঘাটতির কথা সরাসরি বলে রাখি: এই লেখা তৈরির সময় দূতাবাসের নিজের ভিসা-শর্ত ও ফির পাতা আমাদের কাছে খুলছিল না। তাই ঢাকার নির্দিষ্ট ভিসা ফি বা কাগজের তালিকা আমরা এখানে উল্লেখ করছি না। এই সংখ্যাগুলো বদলায়, মিশন অনুযায়ী আলাদা হয়, আর ভারতের ফিকে ঢাকার ফি বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক সেই ধরনের শর্টকাট যা পরিবারের টাকা নষ্ট করে। বর্তমান ফি দূতাবাস থেকে সরাসরি জেনে নিন।

টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে পরে শিক্ষার্থী ভিসা করা যায়?
ঠিক এই জায়গাতেই Philippines সরকারের দুটি সূত্র একে অন্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে, আর বিষয়টা চেপে যাওয়ার চেয়ে আপনাকে দেখিয়ে দেওয়াই আমরা ভালো মনে করি।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করে Executive Order No. 423। সেখানে বলা আছে, আবেদন অনুমোদিত হলে শিক্ষার্থীকে "নিজের দেশ বা বৈধ বসবাসের দেশের Philippine Foreign Service Post থেকে ভিসা নিতে হবে, আবেদনের সময় তিনি যেখানেই থাকুন" — এবং পরিষ্কার ভাষায়, "অন্য কোনো শ্রেণির ভিসা থেকে শিক্ষার্থী ভিসায় রূপান্তর অনুমোদিত হবে না।" শুধু এই আদেশ পড়লে টুরিস্ট-হয়ে-পরে-বদল রাস্তাটা পুরোপুরি বন্ধ।
অথচ নয়াদিল্লির Philippines দূতাবাস ঠিক সেই রূপান্তর নিয়েই একটি পাতা প্রকাশ করে রেখেছে, যেখানে লেখা — পড়তে ইচ্ছুক বিদেশিরা "9(a) সাময়িক ভ্রমণ ভিসায় দেশে ঢুকতে পারেন, যা পরে 9(f) শিক্ষার্থী ভিসায় রূপান্তর করা যায়।" দুটি পাতাই Philippines সরকারের ডোমেইনে, দুটিই সক্রিয়।
একটি নির্বাহী আদেশের অবস্থান মিশনের একটি পদ্ধতিগত ওয়েবপাতার চেয়ে ওপরে। টুরিস্ট হিসেবে ঢুকে রূপান্তরের আশা করলেন, আর Bureau of Immigration যদি EO 423 অক্ষরে অক্ষরে প্রয়োগ করে — তাহলে টিউশন ফি দেওয়া হয়ে গেছে এমন কোর্সে আপনি বৈধভাবে ভর্তিই হতে পারবেন না। বাংলাদেশি আবেদনকারীর জন্য কোন পথ প্রযোজ্য, ঢাকার দূতাবাস থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন, আর উত্তরটি সংরক্ষণ করুন।
HSC পাস করে সোজা "MBBS in Philippines" কেন সম্ভব নয়?
কারণ Philippines-এ MBBS নামের কোনো ডিগ্রিই নেই। আছে Doctor of Medicine (MD), আর তার গড়নটা আমেরিকান ধাঁচের — আগে স্নাতক, তারপর ডাক্তারি।
Angeles University Foundation-এর School of Medicine নিজেদের ভর্তি পাতায় শর্তটি লিখে রেখেছে: আবেদনকারীকে "যেকোনো স্নাতক ডিগ্রির অধিকারী" হতে হবে এবং National Medical Admission Test (NMAT) দিয়ে ৪০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেতে হবে। University of the Philippines Manila আরেক দিক থেকে একই গড়নের প্রমাণ দেয় — তাদের বিদেশি শিক্ষার্থীর ফি-তালিকায় Medicine রাখা হয়েছে "2nd Degree Programs"-এর ঘরে, Law, Veterinary Medicine ও Dentistry-র সঙ্গে। আর Davao Medical School Foundation, Commission on Higher Education-কে উদ্ধৃত করে, MD-কে বর্ণনা করেছে "৫৪ মাসের প্রোগ্রাম, স্নাতক প্রোগ্রাম এর বাইরে" হিসেবে।
হিসাবটা সৎভাবে মিলিয়ে নিন। একটি প্রি-মেডিকেল স্নাতক, তারপর NMAT, তারপর MD-র ৫৪ মাস। Kyrgyzstan, Russia কিংবা China-তে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যে সরাসরি সাড়ে পাঁচ বছরের MBBS পড়েন, তার চেয়ে এই পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। আর যে ব্রোশিওরে Philippines-এর ক্যাম্পাসের ছবির পাশে "MBBS, ৫ বছর" লেখা থাকে, সেটি এমন একটি জিনিসের বর্ণনা দিচ্ছে যার অস্তিত্বই নেই।
EO 423 অনুযায়ী Commission on Higher Education-এর Certificate of Eligibility for Admission শুধু তখনই দরকার, যখন সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে ভর্তিতে বাধা থাকে — নির্দিষ্টভাবে ডাক্তারি ও ডেন্টাল। এটি আসনসংখ্যার নিয়ম, জাতীয়তার নিয়ম নয়। বাংলাদেশকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো নিষিদ্ধ-জাতীয়তার তালিকায় রেখেছে — Philippines-এর এমন কোনো সূত্র আমরা পাইনি।
Philippines-এ পড়ার খরচ আসলে কত?
এখানে সাবধান থাকতে হবে, কারণ সৎ উত্তরটি হলো — বাংলাদেশি পরিবারের যা জানা দরকার, Philippines-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার অনেক কমই প্রকাশ করে। যেটি আমরা দিতে পারি, সেটি বাস্তব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের প্রকাশিত: University of the Philippines Manila-র বিদেশি শিক্ষার্থীদের Education Development Fee। এটিকে যা, তাই হিসেবেই পড়ুন — অন্য ফির ওপরে বসা একটি বিদেশি-শিক্ষার্থী চার্জ, পুরো বিল নয়।
| স্তর | প্রতি সেমিস্টার | সামার | রেসিডেন্সি |
|---|---|---|---|
| স্নাতক | USD ৩০০ | USD ১২০ | USD ৬০ |
| স্নাতকোত্তর | USD ৫০০ | USD ২০০ | USD ১০০ |
| দ্বিতীয় ডিগ্রি (Medicine, Law, Vet, Dentistry) | USD ৪০০ | USD ১৬০ | USD ৮০ |
এবার যে অংশটা অন্য গাইডগুলো বাদ দিয়ে যায়। বাংলাদেশি এজেন্টরা যেসব Philippine মেডিকেল স্কুলের নাম সবচেয়ে বেশি বলেন — University of Santo Tomas, Davao Medical School Foundation, Cebu Institute of Medicine, Angeles University Foundation — আমরা তাদের প্রকাশিত ফি-পাতা যাচাই করেছি, আর তাদের কেউই পড়া যায় এমন কোনো পূর্ণ MD টিউশন ফি প্রকাশ করে না। UST-র তালিকা আছে শুধু ছবি হিসেবে। CIM-এর তালিকায় শিরোনাম আছে, অঙ্ক নেই। DMSF আর AUF কোনো সংখ্যাই দেয় না।
তাই আমরাও কোনো সংখ্যা ছাপাচ্ছি না। "MBBS in Philippines" ধরনের এজেন্ট-ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটি পেসো-অঙ্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের পাতার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা যায় না। কোনো কনসালটেন্সি যদি আপনাকে নির্দিষ্ট বার্ষিক টিউশন বলে দেয়, জিজ্ঞেস করুন সংখ্যাটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন পাতা থেকে এসেছে — আর সেই পাতা তাঁদের সঙ্গে বসেই খুলুন।
বাংলাদেশের apostille Philippines-এ চলে?
চলার কথা, আর এটি সত্যিই সুখবর। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention-এ Philippines পক্ষভুক্ত ১৪ মে ২০১৯ থেকে, এবং বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানানো বারোটি দেশের মধ্যে Philippines নেই। বাংলাদেশ কনভেনশনে যুক্ত হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, অর্থাৎ বাংলাদেশের Apostille Authority-র apostille বসানো সার্টিফিকেট দূতাবাসে আরেক দফা লিগালাইজেশন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।
আপত্তি জানানো বারোটি দেশ — Germany, Austria, Czechia, Greece, Estonia, Belgium, Netherlands, Finland, France, Denmark, Argentina ও Lithuania — যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এখনো পুরোনো লিগালাইজেশনের শিকল পার হতে হয়, তার তুলনায় এটি সময় ও খরচে সত্যিকারের সঞ্চয়। তবে মনে রাখুন, এখানে আমরা কনভেনশনের কার্যপদ্ধতি পড়ে বলছি, বাংলাদেশ নিয়ে Philippines-এর কোনো সংস্থার সরাসরি বিবৃতি উদ্ধৃত করছি না — তাই দূতাবাস কোন ফরম্যাট চায়, সেটি নিশ্চিত করে নিন।
কোন কাগজ বাংলাদেশে তৈরি হবে, আর কোনটা Manila-তে?
ভাগটা জরুরি, কারণ ভুল দেশে তৈরি করা কাগজের দাম আপনাকে দুবার দিতে হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর মেডিকেল পরীক্ষা নিজের দেশের ধাপ: কনস্যুলার পথে জাতীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া ক্লিয়ারেন্স লাগে, সাধারণত ছয় মাসের বেশি পুরোনো নয় এবং সত্যায়িত, সঙ্গে ল্যাব পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রেসহ মেডিকেল সার্টিফিকেট। আর বায়োমেট্রিক ও ACR I-Card Philippines-এর ধাপ।
কাগজের তালিকা
- কোর্সের মেয়াদের চেয়ে ভালোভাবে বেশি সময় বৈধ থাকে এমন পাসপোর্ট
- Philippines-এর প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক গ্রহণপত্র
- Apostille করা শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- জাতীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- ল্যাব ফলাফল ও বুকের এক্স-রেসহ মেডিকেল সার্টিফিকেট
- টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচ বহনের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ
- দূতাবাসের বর্তমান মাপ অনুযায়ী পাসপোর্ট ছবি
- CHED-এর Certificate of Eligibility for Admission — শুধু ডাক্তারি ও ডেন্টালের আবেদনকারীর জন্য
- NMAT ফলাফল — শুধু ডাক্তারির আবেদনকারীর জন্য
পড়ার সময় কাজ করা যায়? পাস করার পর থাকা যায়?
আমরা জানি না, আর অনুমান করেও বলব না। Bureau of Immigration-এর নিজের FAQ এবং Department of Labour and Employment-এর বিদেশি কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত পাতা আমরা খুঁজে দেখেছি, কিন্তু 9(f) বা SSP ধারীদের কাজের অধিকার নিয়ে কোনো প্রাথমিক সূত্র পাওয়া যায়নি, আর কোনো অভিবাসন বা পররাষ্ট্র-বিষয়ক পাতায় পড়াশোনা-পরবর্তী কাজের পথও নেই।
এই অনুপস্থিতিটাই একধরনের তথ্য। যে গন্তব্য সত্যিই শিক্ষার্থীর কাজের অধিকার আর স্নাতক-পরবর্তী পথ দেয় — যেমন মাল্টা, যুক্তরাজ্য কিংবা ইউরোপের কয়েকটি দেশ — সেখানকার সরকার কথাটা লিখে রাখে। আমরা যেসব পাতা দেখতে পেরেছি, তাতে Philippines রাখেনি। কোনো কনসালটেন্সি যদি বলে Manila-তে খণ্ডকালীন কাজ করে পড়ার খরচ স্বচ্ছন্দে চালানো যাবে, তাঁদের কাছে সেই সরকারি পাতাটি চেয়ে নিন।
কম খরচের প্রতিটি ডাক্তারি-গন্তব্যের ক্ষেত্রেই আরেকটি দরজা আছে, Philippines বাদ নয়: বাংলাদেশে চিকিৎসা পেশায় যেতে চাইলে বিদেশে MBBS বা সমমানের পড়া শুরুর আগেই BMDC-র Eligibility Certificate লাগে, আর BMDC-র নিজের শর্ততালিকা চায় বাংলাদেশের MBBS/BDS ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফলাফলের কাগজ। দেশে ফেরা স্নাতকদের BMDC-র Registration Qualifying Examination-ও পাস করতে হয়। যে ডিগ্রি নিবন্ধন করাতে পারবেন না, সেটি দিয়ে কাজও করতে পারবেন না।
পড়ানো কি সত্যিই ইংরেজিতে হয়?
মোটের ওপর হয় — আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এটিই Philippines-এর সবচেয়ে জোরালো দিক। Executive Order No. 210 তৃতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজিকে পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানের সময়ের অন্তত সত্তর শতাংশ ইংরেজিতে রাখতে বলে, এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজিকে প্রধান মাধ্যম করতে উৎসাহিত করে। বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়া শিক্ষার্থীর জন্য এর মানে, Moldova, Egypt, Russia বা China যে ভাষা-বছরটি চাইবে, সেটি এখানে লাগছে না।
আমরা যে অভিবাসন বা CHED-এর পাতাগুলো দেখেছি, তার কোথাও IELTS বা TOEFL-এর শর্ত লেখা পাইনি। তবে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের ইংরেজি-মান ঠিক করতে পারে, তাই ধরে নেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি যাচাই করুন।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি
Philippines নিয়ে আসা প্রশ্নে আমরা সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়ি, সেটি আসলে ভিসার সমস্যাই নয় — সেটি ডিগ্রির গড়ন নিয়ে সমস্যা, আর তা ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। একজন শিক্ষার্থী আসেন HSC-র ফল, ডাক্তারি হওয়ার স্বপ্ন আর একটি ব্রোশিওর নিয়ে; আলোচনা শুরু করতে হয় এটি বুঝিয়ে যে পথটা আগে স্নাতক, তারপর NMAT, তারপর MD। এই খবর পরিবার প্রথম মাসের কাউন্সেলিং রুমে যতটা সহজে নেয়, আঠারো মাস পরে ততটা নেয় না। Philippines-এর ভিসা-প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহনীয় — ঢাকায় আবাসিক দূতাবাস, apostille-এর কার্যকর পথ, ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান। যেটিতে যত্নের হাত দরকার, সেটি একাডেমিক পরিকল্পনা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে China স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ · বাংলাদেশ থেকে South Korea স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ · এই সপ্তাহের গবেষণা থেকে আরও: Egypt ও Thailand, আর এখন Moldova-ও। সংরক্ষণ করে রাখার মতো সরকারি সূত্র: Bureau of Immigration-এর 9(f) পাতা ও ঢাকার Philippines দূতাবাস।
Philippines আপনার আসল পরিকল্পনার সঙ্গে মিলছে কি না, নিশ্চিত নন?
ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা, আইটি আর নার্সিংয়ের জন্য দেশটি যুক্তিসংগত পছন্দ; আর যিনি দ্রুত ডাক্তারি পড়তে চান, তাঁর জন্য বেমানান। আপনি এর কোনটি, তা নির্ভর করে আপনার ফল, বাজেট আর কত বছর দিতে পারবেন তার ওপর — আর সেটি একটি আলোচনা, কোনো তালিকা নয়। সার্টিফিকেটগুলো নিয়ে আসুন, আমরা একসঙ্গে ভালোভাবে দেখি।
ফ্রি পরামর্শ নিন →
